‘ক্ষমতার দম্ভে এবং লোভে তাঁরা পাগল হয়ে গেছেন’, আরজি কর নির্যাতিতার বাবা-মাকে তোপ নির্মলের

Nirmal Ghosh Arrested Photo-SNS

ক্ষমতার দম্ভে আরজি কর নির্যাতিতার পরিবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে বলে এবার মৃতার বাবা-মাকে আক্রমণ করলেন পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। শনিবার খড়দহ থেকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রবীণ নেতার দাবি, রাজনৈতিক পালাবদলের পর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। এমনকী গোটা প্রক্রিয়ার পিছনে আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ক্ষমতার লোভ এবং দম্ভ দায়ী বলে তোপ দাগলেন নির্মল ঘোষ। এখন নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ পৃথক ঘটনায় খড়দহ থানায় পুলিশ হেপাজতে আছেন। তাঁরা একই লকআপে বন্দি।

এদিকে আরজি কর কাণ্ডে সিবিআইকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বাকি তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রুদ্ধদ্বার কক্ষে মামলার শুনানি হয়। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে এই মামলায় ৫৪টি বিষয় খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছিল। সিবিআই ১৬টি বিষয় খতিয়ে দেখেছে বলে আদালতে জানিয়েছে। সিবিআই দ্বিতীয় দফার তদন্তে কোন বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেছে সেটা তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ আদালতে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পরবর্তী শুনানি ২৪ সেপ্টেম্বর। আর শনিবার সাংবাদিকরা তাঁকে তড়িঘড়ি মৃতদেহ সৎকার করার নির্দেশ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে নির্মল ঘোষ বলেন, ‘ময়নাতদন্ত থেকে শুরু করে অন্ত্যেষ্টি সবকিছু সরকারিভাবে পরিচালিত হয়েছিল। আমার কোনও হাত ছিল না। মে মাসের ৪ তারিখে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতার দম্ভে এবং লোভে তাঁরা পাগল হয়ে গেছেন। আইন-আদালতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মিথ্যা প্ররোচনায় আমাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে গত ২৫ আগস্ট থেকে বাবা ও ছেলে খড়দহ থানার একই লক-আপে আছেন। মেঝেতে বিছানায় একসঙ্গে দিন কাটছে নির্মল এবং তীর্থঙ্করের। তাঁদের গল্প করতেও দেখেছেন কারারক্ষীরা। তবে চিন্তা ও অবসাদ গ্রাস করছে তাঁদের। নির্মলবাবু সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি আর তীর্থঙ্কর পরছেন প্যান্ট ও টি-শার্ট। খাবার বলতে আসামিদের জন্য তৈরি পাতলা ডাল, সবজি, ডিমের ঝোল, ভাত বা রুটি খাচ্ছেন। সেখানে এদিন তাঁকে বিচারের জন্য আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরী থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি আইনি লড়াই লড়ছেন। দেহ দ্রুত পুড়িয়ে দেওয়া এবং প্রমাণ লোপাট করার মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য মোট ৯টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


তাছাড়া পুলিশ সূত্রে খবর, লটারির টিকিট জোর করে ছিনিয়ে নেওয়ার মামলায় তীর্থঙ্কর ঘোষকে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। ওই মামলায় আগেই নির্মল ঘোষকে হেপাজতে নিয়ে পুলিশ জেরা করেছে। বাবা-ছেলেকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তার মধ্যেই এমন তোপ দেগেছেন তিনি।