রাজ্যে উপনির্বাচন এখন আসন্ন। আর সেখানে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রেজিনগরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হবে। কারণ এই আসন থেকে জিতে তা ছেড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর এই কেন্দ্রের প্রার্থী নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দুই শিবিরই কি প্রার্থী দেবে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে? কালীঘাট তৃণমূল কি প্রার্থী দিতে পারবে? প্রশ্ন উঠছে। এই আবহে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে শনিবার দুই তৃণমূলের সঙ্গেই বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টেলিফোন করে ডেকে পাঠালেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক অখিল গিরিকে।
এই খবর চাউর হতেই আবার গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হতে পারে অখিল গিরিকে। কারণ অখিল গিরি অত্যন্ত শুভেন্দু বিরোধী। তার উপর অধিকারী পরিবারেরও বিরোধী। এমনকী ওই জেলারই রাজনৈতিক নেতা অখিল গিরি। যিনি কোনও কিছুতেই ভয় পাওয়ার লোক নন। বিজেপির চোখে চোখ রেখে লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন। তার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের নেতা তথা পুরনো সঙ্গী। সেক্ষেত্রে অখিল গিরিই হয়ে উঠতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুরুপের তাস। অখিল গিরি জানান, তিনদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে কথা হয়েছে। উপনির্বাচন নিয়ে প্রাক্তন বিধায়কের পরামর্শ চেয়েছেন তিনি। শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে অখিলকে ডেকে পাঠান মমতা।
অখিল গিরিকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হচ্ছে এমন কোনও সিলমোহর এখনও দেওয়া হয়নি কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তবে বিষয়টি ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অখিল গিরি যদি সত্যিই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হন তাহলে উপনির্বাচনে বেশ টাফ ফাইট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই বিষয়ে অখিল গিরি অবশ্য বলেন, ‘তিনদিন আগে টেলিফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। উনি আমার পরামর্শ চেয়েছিলেন। জেলা থেকে আমরা সাজেশন দিয়েছি ইতিমধ্যেই। হোয়াটসঅ্যাপে সাজেশন দিয়েছি। গতকাল একটা টেলিফোন এল যে আমাকে শনিবার তাঁর বাড়িতে ডেকেছে। জানি না তিনি কী আলোচনা করবেন।’
তাছাড়া অখিল গিরিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি শুভেন্দু অধিকারী দল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ওই জেলায় লড়াই করে জিতেছিলেন। নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা নিয়ে অখিল জানান, তিনি দলের অনুগত সৈনিক। দল তাঁকে কোনও নির্দেশ দিলে তিনি তা পালন করবেন। দলের এমন হালেও পাশে আছেন তিনি। দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া অথবা দলবিরোধী মন্তব্য করেননি তিনি। অখিল গিরির বক্তব্য, ‘দল যদি আমাকে নির্দেশ দেয় আমি দলের অনুগত সৈনিক। আমি দলের নির্দেশ মানতে বাধ্য। আমরা চাই স্থানীয় প্রার্থী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের পছন্দ মতো লোককে বেছে নিয়ে প্রার্থী করুক। তবে স্থানীয় প্রার্থীর উপর জোর দিয়েছি। দল দায়িত্ব দিলে সেই নির্দেশ মানতে আমি বাধ্য।’