দিঘার জগন্নাথ ধামের নাম আগেই বদলে গিয়েছে। সেটি হয়েছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মন্দির। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই এমন বদল ঘটেছে। এবার সেখানে পা রাখলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পিতা শিশির অধিকারী। কাঁথির অধিকারী পরিবারের কর্তা দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে দেব দর্শন করেন এবং বিশেষ আরতিতে অংশ নেন। কৃষ্ণ নামে মেতে উঠতেও দেখা যায় তাঁকে। আর এরপর আগামী ১৮ জুলাই দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে রথযাত্রার সূচনার জন্য প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানালেন দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস।
এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় শিশির অধিকারী দিঘার ওই সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রবেশ করেন। আর সেখানে গিয়ে ‘কৃষ্ণনামে’ মজে গেলেন তিনি। তাঁর গলায় মালা ছিল। এখানে দু’হাত তুলে নেচে উঠে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অশীতিপর শিশিরবাবু। একেবারে খোশ মেজাজে ছিলেন তিনি। সোমবার স্নান পূর্ণিমার আগের রাতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে হঠাৎ আসেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিশির অধিকারী। তারপর মন্দিরে পৌঁছন তিনি। বিশেষ সন্ধ্যা আরতিতে যোগদান করে নিজেও আরতি করেন শিশিরবাবু। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই আনন্দিত হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে গলায় পুষ্প মালা পরে তালে তালে নৃত্য করেন শিশিরবাবু। এদিন প্রাক্তন সাংসদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমণ দাস। প্রাক্তন সাংসদকে কাছে পেয়ে তখন আবেদন করা হয়, রথযাত্রায় উপস্থিত থাকার জন্য। রথের দড়ি টেনে রথযাত্রার শুভ সূচনা করার জন্য। এমনভাবে তাঁকে নাচতে দেখে কারণ জানতে চাওয়া হয়। তখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিশির অধিকারী বলেন, ‘এটা আমাদের পারিবারিক স্টাইল। রাধাকৃষ্ণ কুলদেবতা। সবসময় তাঁকে পুজো করে এবং আশীর্বাদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাই। রাধারমণবাবু যেভাবে এখানকার কাজকর্ম সামলাচ্ছেন, পুজো করছেন, দেখে আমার খুব ভাল লাগল।’
এছাড়া রবিবারই অভ্যন্তরীণ কারণে ইসকন, কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাধারমণ দাসকে। তারপরই তিনি দিঘার জগন্নাথ সংস্কৃতি ক্ষেত্রে পৌঁছে যান। সোমবার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার প্রস্তুতি করেন। শিশিরবাবুর আসা নিয়ে রাধারমণ দাসের বক্তব্য, ‘আজকে উনি প্রথমবার এখানে এলেন। আমরা আনন্দিত। রথযাত্রায় ওঁকে উদ্বোধনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি উনি আসবেন। রথযাত্রার উদ্বোধনও করবেন।’ আর শিশির অধিকারীর কথায়, এখানে মানুষ আসেন। এখনও আসছেন। বারবার আসবেন।’