সোমবার রাতে নিউটাউনে এক পথচারীকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারায় ফের শিরোনামে রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার প্রাক্তন বিডিও। সল্টলেকে দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনে অভিযুক্ত তিনি। মঙ্গলবার সকালে মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট -এর আওতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর গাড়ি নিয়ে পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার সময় প্রশান্ত বর্মণ মত্ত অবস্থায় ছিলেন। আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। ব্রিদ অ্যানালাইজার টেস্ট পুলিশ করতে চাইলে তাতে বাধা দেন তিনি। জোরাজুরি করলে পুলিশকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরীক্ষা না করেই অবশেষে পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলে।
ভোরে প্রশান্তকে ইকো পার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশের উপরমহল থেকে কোনও নির্দেশ এখনও আসেনি। তাই আপাতত স্বমেজাজে ইকো পার্ক থানাতেই রয়েছেন প্রশান্ত।
দীর্ঘ দিন ধরেই প্রাক্তন বিডিও ‘ফেরার’ ছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তবে বিভিন্ন সময়েই তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা গিয়েছে বলে অনেকে দাবি করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, এর মাঝে বেশ কয়েক বার নিউটাউনের বাড়িতেও প্রশান্তকে দেখা গিয়েছে।
গত বছর ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকে দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত বর্মণ।
সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে বিধাননগর পুলিশ। তারা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থও হয়। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে আদালত। ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।
তবে রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও আত্মসমর্পণ না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে বিধাননগর আদালত। তখন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ। এর পর থেকেই ‘ফেরার’ ছিলেন প্রশান্ত বর্মণ।
সোমবার নিউটাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় প্রশান্তের গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ধাক্কা মারার সেই ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তার পরেই ‘ফেরার’ প্রশান্তকে আটক করে পুলিশ।