জলদাপাড়ায় অনলাইনে জঙ্গল সাফারি বুকিং শুরু, দুর্গাপুজোর উপহার পর্যটকদের

Jaldapara Jungle Safari Photo-SNS

দুর্গাপুজোয় বহু পর্যটক এখন প্রস্তুত বেরিয়ে পড়ার জন্য। পাহাড় থেকে ডুয়ার্স সর্বত্র ঘুরতে যেতে বুকিং করা হয়ে গিয়েছে। রাত পোহালেই মহাষষ্ঠী। সেদিন বহু পর্যটক পাহাড় থেকে ডুয়ার্স সফরে বেরিয়ে পড়বেন। তার আগেই এল সুখবর। ডুয়ার্সে জঙ্গল সাফারি করার জন্য পর্যটকদের কাছে এল সুখবর। এবার বাড়িতে বসেই অনলাইনে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সাফারি বুকিং করতে পারবেন পর্যটকরা। এখন থেকে এই নতুন পরিষেবা চালু করেছে রাজ্য বনদপ্তর। একমাস আগে পর্যন্ত অগ্রিম বুকিংয়ের সুবিধা থাকছে। তাই পর্যটকরা নিজেদের পছন্দমতো সাফারি রুট বেছে নিয়ে আগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারবেন। একবছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে জঙ্গল সাফারির আবার অনলাইন বুকিং চালু করল বনদপ্তর।

এই উদ্যোগের ফলে দেশের এবং বিদেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই পর্যটকরা জলদাপাড়ার জঙ্গল সাফারির জন্য আগাম বুকিং করতে পারবেন। পর্যটকরা একমাস আগে থেকেই অনলাইনে আগাম বুকিং করতে পারবেন। এটাকে দুর্গাপুজোয় বনদপ্তরের উপহার হিসাবেই দেখা হচ্ছে। জলদাপাড়ায় জিপ সাফারির মোট ৯১২টি এবং ৪৮টি হাতি সাফারির আসন আছে। বনদপ্তর সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, জলদাপাড়ার মাদারিহাট, শালকুমার, চিলাপাতা, লঙ্কাপাড়া এবং কোদালবস্তি এই পাঁচটি রুটে জঙ্গল সাফারি করা যাবে। বনদপ্তরের জঙ্গল সাফারির অনলাইন বুকিংকে স্বাগত জানিয়েছে পর্যটন সংস্থাগুলি। শুধু জিপ সাফারি নয়, হাতি সাফারির জন্যও থাকছে অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা।

প্রত্যেকদিন হাতি সাফারির ৪৮টি আসন আগাম বুক করা যাবে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে সাফারি করতে ইচ্ছুক পর্যটকদের অনলাইন বুকিং করার জন্য যেতে হবে বনদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে। ওয়েবসাইট-https://wbsfda.wb.gov.in। সেখানে প্রবেশ করে বুকিংয়ের তথ্য দেখে পছন্দের রুট এবং ভ্রমণের দিন অনুযায়ী আসন সংরক্ষণ করতে পারবেন পর্যটকরা। একমাস আগে পর্যন্ত বুকিং করার সুযোগ থাকায় ছুটির দিন অথবা পর্যটনের ব্যস্ত মরশুমে শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা এড়ানো সহজ হবে। এই বিষয়ে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, ‘জলদাপাড়ার পর্যটনকে সুসংহত, সহজলভ্য এবং আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। জলদাপাড়ার পর্যটনকে পরিবেশবান্ধব করতেই আমাদের এই পদক্ষেপ।’


তাছাড়া  অনলাইনে অগ্রিম বুকিং করার সুবিধা চালু হওয়ায় পর্যটকদের সময় বাঁচবে এবং সাফারির পরিকল্পনাও অনেক সহজ হবে। হোটেল, হোমস্টে, পর্যটন সংস্থা এবং পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা পর্যটকদের আসার বিষয়ে আগাম পরিকল্পনা করার সুযোগ পাবেন। তার ফলে জলদাপাড়াকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয় পর্যটন নির্ভর ব্যবসা এবং মানুষের জীবিকাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভুটানের জয়গাঁ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে জলদাপাড়া আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। এই বিষয়ে চিলাপাতা জিপসি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিমল রাভা বলেন, ‘আমরা বনদপ্তরের এই পদক্ষেপে খুশি। এখন থেকেই অনলাইন বুকিং আসতে শুরু করেছে।’