বারাসত পোস্ট অফিসে ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষার অভিযোগ খতিয়ে দেখলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া

বারাসতে সিএএ সংক্রান্ত একটি সাংগঠনিক কাজে এসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির ছবি দেখে সরাসরি পদক্ষেপ করলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত খাদ্য ও সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। সোমবার সকালে বারাসত হেড পোস্ট অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইন ও উপচে পড়া ভিড় দেখে নিজে উদ্যোগী হয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি।
মূলত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক বা আধার সিডিং করার কাজ চলছিল ওই পোস্ট অফিসে। সেই কাজের জন্য সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষ লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হন। মাত্র দুইটি কাউন্টার খোলা থাকায় দ্রুতই ভিড় বেড়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা শুরু হয়।
পরিস্থিতি দেখে মন্ত্রী সরাসরি পোস্ট অফিসের সুপারিন্টেন্ডেন্টের ঘরে যান এবং কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, তাই কাউন্টার সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এই বিষয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অশোক কীর্তনিয়া জানান, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আধার লিঙ্কিংয়ের কাজ এখন রাজ্যজুড়েই চলছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে উপভোক্তাদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেই বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে ভিড় তৈরি হয়েছে। এখানে মাত্র দুটি কাউন্টার থাকায় চাপ বেড়েছে, তাই আমি নিজে এসে বিষয়টি দেখলাম এবং পোস্টমাস্টার ও সুপারিন্টেন্ডেন্টকে অনুরোধ করেছি যাতে দ্রুত অতিরিক্ত কাউন্টার চালু করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের কষ্ট তিনি উপেক্ষা করতে পারেননি বলেই সরাসরি সেখানে যান এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। ডাকঘর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে জানানো হয়, কর্মীদের একটি অংশ প্রশিক্ষণে থাকায় সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তবে দুপুরের পর নতুন কর্মী এলে অতিরিক্ত কাউন্টার চালু করা হবে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এর পাশাপাশি প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সিএএ সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াও একই পোস্ট অফিসে চলছে, যার কারণে কাজের চাপ আরও বেড়েছে। ফলে একদিকে আধার লিঙ্কিং, অন্যদিকে আবেদন যাচাই—দুই কাজ একসঙ্গে চলায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।