পর্যটকদের খাদ্যসুরক্ষায় বিশেষ নজর রাজ্যের, রথযাত্রায় দিঘায় একাধিক পদক্ষেপ

Rath Yatra File Photo

সামনেই রথযাত্রা। আর এই রথ উৎসব হবে মহা ধুমধাম করে। দিঘায় রয়েছে জগন্নাথ মন্দির। সেখানে এবার মহাসমারোহে এই উৎসব পালন করা হবে। আর সেখানে বিপুল পরিমাণ পর্যটক ভিড় করবেন। এই আবহে পর্যটকদের নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে নিউ দিঘায় বিশেষ অভিযান চালাল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। নিউ দিঘার একাধিক ছোট-বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকানে ঝটিকা পরিদর্শনে যান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। আর সেখানে গিয়ে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেন। কারণ একটাই, রথ উৎসবে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। আর এখানের নানা রেস্তোরাঁ, রাস্তার ধারের দোকান থেকে খাবার কিনে খাবেন তাঁরা। সেসব খেয়ে যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়েন তার জন্যই আগাম পদক্ষেপ।

এদিকে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযানে নেমে হোটেলগুলির রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, ব্যবহৃত তেলের মান, খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছেন কিনা এবং রান্নাঘরের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন অফিসাররা। তাতে কয়েকটি হোটেল, রেস্তোরায়ঁ স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিকাঠামোর কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সেই ত্রুটি সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকী ভবিষ্যতে নিয়ম না মানলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অফিসাররা পরিদর্শনের পর জানান, উৎসবের মরশুমে দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায়। তখন খাবারের মান বজায় রাখা এবং খাবার খেয়ে রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। সেগুলি এড়াতে নিয়মিত নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত এবং মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করতেই এই অভিযান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে পর্যটকরা আরও নিরাপদ পরিবেশে খাবার খেতে পারবেন এবং দিঘার পর্যটন ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।


তাছাড়া গত ২৯ জুন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে হয়েছিল স্নানযাত্রা উৎসব। তখন থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেটাই এবার ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে। কারণ রথযাত্রায় ভিড় স্নানযাত্রা উৎসবের থেকে বেশি হবে। তাই একদিকে যেমন নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হবে তেমনই খাবারের মান ঠিক রাখার উপরও কড়া নজরদারি চলবে। কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। তাই এখন থেকেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। যা চলবে ধারাবাহিকভাবে বলে খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর।