তামান্না হত্যা তদন্তে আরও পাঁচ গ্রেপ্তার, পুলিশের ভূমিকায় প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর তামান্না হত্যা মামলার তদন্তে গতি পেল। গত দু’দিন ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর ফলে এই মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার জিয়ারুল শেখ এবং সাবির শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার পুলিশের জালে ধরা পড়ে ফকর শেখ ওরফে ইসমাইল শেখ, হাফিজুল শেখ এবং মিনারুল শেখ।

এর মধ্যে মিনারুলকে হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে আনার জন্য গুরুগাঁও আদালতে আবেদন জানানো হবে। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে।

এদিকে তদন্তে দ্রুত অগ্রগতির জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অটল এবং অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধইি হবে বিচারের একমাত্র ভিত্তি। তাঁর কথায়, ‘আইনের চোখে সকলেই সমান। অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না।‘


মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিহত নাবালিকার মা সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিয়েছে। এই তৎপরতার জন্য তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান এবং আইন তার পথেই চলবে, অপরাধীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে বার্তা দেন।

<iframe src=”https://www.facebook.com/plugins/post.php?href=https%3A%2F%2Fwww.facebook.com%2FSuvenduWB%2Fposts%2Fpfbid0V4NCsXhqS8SerPGFqyNj47JwE4V4NZXnbDFKdRfG7FXDPadjUcr8gH6EJz1PUZMil&show_text=true&width=500″ width=”500″ height=”716″ style=”border:none;overflow:hidden” scrolling=”no” frameborder=”0″ allowfullscreen=”true” allow=”autoplay; clipboard-write; encrypted-media; picture-in-picture; web-share”></iframe>

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তামান্না খুনের প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, তামান্নার পরিবার অবশ্যই বিচার পাবে। তমান্নার মায়ের সঙ্গে দেখা করার পরেই তদন্তে গতি আসে। একের পর এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা শুরু হয়।অন্যদিকে বিজেপির আইটিসেলের জাতীয় আহ্বায়ক অমিত মাল্য এ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন। সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় তামান্নর পরিবারকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘মাত্র আট বছর বয়সে রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছিল ছোট্ট তামান্না। কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে জয়ের পর বিজয় মিছিল ঘিরে হওয়া সংঘর্ষে ছোঁড়া বোমার আঘাতে প্রাণ হারায় সে।একজন মা হারিয়েছিলেন তাঁর আদরের মেয়েকে। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সেই হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার অধরাই থেকে যায়। ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যান তামান্নার মা্। পরে তিনি সিপিআই-এর প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবুও দীর্ঘ সময় ধরে অভিযুক্তরা আইনের আওয়ার বাইরে থেকে যায়। অবশেষে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন। তারপরই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। সাক্ষাতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই মামলায় অভিযুক্ত সাবির শেখ এবং জিয়ারুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এটাই ডবল ইঞ্জিন সরকারের কাজ করার ধরন।‘

<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”en” dir=”ltr”>In another case, CPI(M) leader Minakshi Mukherjee met Chief Minister Shri Suvendu Adhikari along with families who had suffered political violence over the years merely because of their political beliefs.<br><br>Among them was the mother of Tamanna Khatun.<br><br>Tamanna was just eight years… <a href=”https://t.co/Gqx36U2wcI”>pic.twitter.com/Gqx36U2wcI</a></p>&mdash; Amit Malviya (@amitmalviya) <a href=”https://x.com/amitmalviya/status/2070009196909871260?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 25, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

তিনি আরও লেখেন,   ‘এমন একটি সরকার, যারা দ্রুত পদক্ষেপ করে। এমন একটি সরকার, যারা মানুষের কথা শোনে। এমন একটি সরকার, যারা বিশ্বাস করে, ন্যায়বিচার কোনও ব্যক্তি বা ভুক্তভোগীর রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর নির্ভর করতে পারে না’।