হাঁসখালি থেকে পুলিশের জালে ৫ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, পাঠানো হলো ডিটেনশন ক্যাম্পে

Hanskhali Police Station Photo-SNS

নদিয়ার হাঁসখালি থানার পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ৫ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দেশজুড়ে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। কাঁটাতার পেরিয়ে অবৈধভাবে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। নকল কাগজপত্র তৈরি করে এখানে থেকেও যাচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরত পাঠাতে সীমান্তে জোরদার টহলদারি চলছে। এবার তাতেই বড় সাফল্য মিলল নদিয়ার হাঁসখালি থানার পুলিশের।  পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে নদিয়ার হাঁসখালি থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, হাঁসখালি থানা এলাকার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন ভারতে প্রবেশ করে। সেটাই গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই পাঁচজনকে। তাদের সঙ্গে আরও কেউ অনুপ্রবেশ করেছে কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখছেন অফিসাররা।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন বেআইনি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে আছে-দু’জন মহিলা, দু’জন ট্রান্সজেন্ডার এবং একজন পুরুষ। গ্রেপ্তার করার পর তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পাঁচজন সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল। তা দেখে পাঁচজন বাংলাদেশিকে ধরে ফেলে পুলিশ এবং তাদের গ্রেপ্তার করে বুধবার থানায় নিয়ে আসে। কোনও বাংলাদেশিকে আর পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। সীমান্ত এলাকা সুরক্ষিত করার কাজও শুরু হয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি জমিও দেওয়া হয়েছে বিএসএফকে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহেই ঘটল অনুপ্রবেশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, মাঝরাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাঁসখালি থানার উমরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই ওই পাঁচ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভারতে প্রবেশের স্বপক্ষে কোনও বৈধ কাগজপত্র বা পাসপোর্ট দেখাতে পারেননি। সীমান্ত পেরিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে তারা ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়। বৈধ নথি না থাকায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে হাঁসখালি থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে দু’জন মহিলা দু’জন ট্রান্সজেন্ডার এবং একজন পুরুষ আছে। ধৃতদের নাম নাহিদা বেগম, আশা হিজড়া, শিলা আক্তার, রীতা মোল্লা, এবং মহম্মদ রাসেল মিয়া। ধৃতরা বাংলাদেশের খুলনা, আশুলিয়া, ময়মনসিংহ, অভয়নগর এবং মহেশপুর এলাকার বাসিন্দা।


তাছাড়া রানাঘাট পুলিশ জেলা সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ থেকে কয়েকজন ভারতে প্রবেশ করে। গোপন সূত্রে খবর পায় হাঁসখালি থানার পুলিশ। এই খবর পাওয়ার পরেই হাঁসখালি থানার ওসির নেতৃত্বে একটি পুলিশ টিম ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তাতেই এই পাঁচজন ধরা পড়ে। সীমান্ত পার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে এরা কেমন করে প্রবেশ করল এবং এদের পিছনে কোনও আন্তর্জাতিক পাচার চক্র যুক্ত আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের এক আধিকারিক জানান, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কারা তাদের আশ্রয় দিত এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।