তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে কাছের নেতা ফিরহাদ হাকিম। সদ্য কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তিনি কলকাতা বন্দর কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক। যিনি বারবার বলেছেন, তাঁর আদর্শ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ছেড়ে তিনি অন্য দলে যাবেন না। এমনকী বিরোধী শিবিরেও নাম লেখাবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেখানে সোমবার বিধানসভায় দেখা গেল, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে ঢুকলেন ফিরহাদ হাকিম। আর তাঁকে নিয়ে গেলেন বিধায়ক সন্দীপন সাহা।
ফিরহাদ হাকিম যে এভাবে শিবির বদল করবেন তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ ছাড়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। এবার কি বিধানসভাতে নতুন সমীকরণ ঘটছে? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজ্য-রাজনীতিতে। সোমবার বিধানসভার লবিতে ফিরহাদ হাকিমের এমন গতিবিধি দেখেই নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন নয়াদিল্লিতে। সেখানে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক চলছে। আর এমন সময়েই ফিরহাদ ডিগবাজি খেল, যা দেখল রাজ্যবাসী।
সোমবারও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। সেটা যেন কার্যত সত্যি হলো। ফিরহাদ হাকিম হাসি মুখে সন্দীপন সাহার সঙ্গে সরাসরি ঢুকে পড়লেন বিরোধী দলনেতার ঘরে। তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম হাত মেলাবেন এটা একেবারে টের পাননি মমতা-অভিষেক। যা আজ ঘটল। বিধানসভার লবি থেকে ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে নিয়ে যান বিধায়ক সন্দীপন সাহা। এই খবর এখন পৌঁছে গিয়েছে মমতা-অভিষেকের কাছেও। তবে কোনও তরফ থেকেই প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে ‘দিদি’। হাতে রাখী পরেছেন সেই দিদির কাছ থেকে প্রত্যেক বছর। দিদির ডাকে সাড়া দিয়ে বারবার তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠক করেছেন। গত শুক্রবার মেয়র পদ ছেড়েছেন। দীর্ঘ ৮ বছর পর মেয়র পদ ছাড়ার সময়ও সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। এমনকী সেদিন বিকেলেও ফিরহাদ হাকিম চলে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। মাত্র তিনদিনের মাথায় সেই ফিরহাদ হাকিমেরও বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। কদিন আগে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকেও যোগ দেন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। এখন ঋতব্রতদের শিবিরে রয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। সেখানে এবার দেখা গেল ফিরহাদ হাকিমকে। তবে ওই শিবিরে যোগ দিয়েছেন কিনা সেটা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফিরহাদ যেদিন মেয়র পদ ছেড়েছিলেন তারপর ঋতব্রত বলেছিলেন, ‘ববিদার সঙ্গে এর মধ্যে আমার সরাসরি কোনও কথা হয়নি। নবান্নে একটু সাধারণ কথা হয়েছিল। যদি সুযোগ হয়, ববিদাকেও ফোন করব। তবে ফোন করে কী বলব, সেটা তো ভবিষ্যতের কথা।’