পিএসি-র চেয়ারম্যান পদে ফিরহাদের নাম নিয়ে জল্পনা বিধানসভার অন্দরে

বিধানসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই কি হাঁটতে চলেছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার? পিএসির চেয়ারম্যান পদে কাকে বসানো হবে, তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী এই পদে সাধারণত বিরোধী শিবিরের কোনও বিধায়ককে নিয়োগ করা হয়। অতীতে দেখা গিয়েছে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা কৌশলগত কারণে এমন ব্যক্তিদের এই দায়িত্বে এনেছিলেন, যিনি কাগজে-কলমে বিরোধী শিবিরের হলেও তলে তলে তৃণমূলের হয়েই কাজ করতেন। এবার সেই তালিকায় উঠে আসছে ফিরহাদ হাকিমের নাম। শোনা যাচ্ছে, পিএসির নতুন চেয়ারম্যান হতে পারেন ফিরহাদ। মমতার সঙ্গ ছাড়ার পুরস্কার হিসেবেই তাঁকে ওই পদ দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন শুরু হয়েছে। দলের একাধিক শীর্ষ নেতা, সাংসদ ও বিধায়ক নিজেদের অবস্থান বদলেছেন। তৃণমূলের অন্দরে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের সময় ফিরহাদের আসন ছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও জাভেদ খানের পাশে। তারপরই ফিরহাদের মমতাকে ছাড়ার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। এরপরই শোনা যাচ্ছে, পিএসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে ফিরহাদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।

পিএসি বা পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি রাজ্য সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং সরকারি অর্থ খরচের স্বচ্ছতা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই কারণেই সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী বিরোধী দলের সদস্যকেই সাধারণত এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়।


 

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় থাকাকালীন মমতা সরকার প্রয়াত মুকুল রায় এবং আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালকে পিএসি-র চেয়ারম্যান করেছিল। এই দুই বিধায়ক বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হলেও পরে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দেন। সে সময় বিষয়টি নিয়ে প্রবল আপত্তি তুলেছিল বিরোধী দল বিজেপি। কিন্তু বিধানসভার তৎকালীন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, সংসদীয় রীতি মেনেই এই নিয়োগ করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মমতাকে শিক্ষা দিতে এবার তাঁর দেখানো পথেই হাঁটতে চলছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সে কারণেই পিএসির চেয়ারম্যান পদে তৃণমূলের টিকিটে জেতা ফিরহাদের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে ফিরহাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন এমন জল্পনা শোনা গেলেও, সরকারি নথিতে তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। তাই শেষ পর্যন্ত তাঁকেই পিএসি-র চেয়ারম্যান করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।