হুমায়ুনকে সমাজচ্যুত করার ডাক ফিরহাদের

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে চান এবং সেই কারণে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।‘

হুমায়ুন আরও বলেন, তিনি অন্তত ৭০-৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসন জিততে পারবেন এবং এজন্য প্রয়োজন ৩-৪ কোটি টাকা করে প্রতিটি কেন্দ্রে। তিনি বাবরি ইস্যু তোলার পর মানুষের আবেগ তার দিকে ঝুঁকেছে উল্লেখ করে ৮০-৯০ আসন নিশ্চিত মনে করছেন।

ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল নেতৃত্ব রীতিমতো চড়া সুরে হুমায়ুনকে আক্রমণ করেছে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে মুসলমানদের আবেগের সঙ্গে খেলাটা অন্যায় ও পাপ। ওই কুলাঙ্গার, কীট হুমায়ুনকে একটিও ভোট দেওয়া উচিত নয়।‘ ফিরহাদের প্রশ্ন, ‘বাংলার মুসলমানরা কি এতটাই বোকা? আমাদের ইমান আপনি টাকার জন্য বিক্রি করে দিতে পারেন না। এটা পাপ, পাপ, পান। ওই কীটকে একটিও ভোট নয়।‘


ওই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাসরা একযোগে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।  বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কোন কর্মকর্তারা এবং কোন মুখ্যমন্ত্রী এতে যুক্ত, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

হুমায়ুন অবশ্য দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ভুয়ো। তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘ইজরায়েল থেকে মেশিন এনে আমার ফোন ট্যাপ করছে, হোয়াটসঅ্যাপ কল রেকর্ড করছে।‘ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ভিডিও প্রমাণ করতে পারলে তিনি সব প্রার্থীদের নিয়ে বসে যাবেন, নাহলে দু’হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করবেন।