হলদিয়ায় পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথা পাইপলাইনে ভয়াবহ আগুন। মঙ্গলবার ভোর ৪টে নাগাদ হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথা পরিবহণকারী একটি পাইপলাইনে আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হলদিয়া পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জীবপুরে।
অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক ঝলসে গিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে ৯ জনকে তমলুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সবাইকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে খবর। তাঁদের মধ্যে চারজনকে এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁরা আপাতত এসএসকেএম-এর ট্রমা কেয়ারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সকালেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলিকে ফোন করে পরিস্থিতির খোঁজ খবর নেন। তবে দুর্ঘটনার কারণ এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি পাইপলাইন থেকে ন্যাপথা লিক হয়েছে। ভোরের দিকে বৃষ্টিও হয়। ওই সময়ে বজ্রপাতও হয়েছিল। তার জেরেই আগুন লেগে থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নীরঞ্জন কুমার জানান, ‘হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার পর অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু করেছে।‘
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের ন্যাপথা পাইপলাইনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে পাইপলাইনে লিক থেকেই দুর্ঘটনার ঘটেছে বলে মনে করছে সংস্থা। যদিও ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
এলাকার বিধায়কেরও প্রাথমিক অনুমান, পাইপলাইনে লিক থেকেই আগুন লাগতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্য,’এই ধরনের পাইপলাইনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ থাকায় লিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।‘ তিনি বলেন, ‘পাইপলাইনগুলিতে মোটরবাইকে টহল দেন নিরাপত্তারক্ষীরা এবং নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়। তা সত্ত্বেও কখন কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রায় আধ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে।‘
দুর্ঘটনাটি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের সীমানা প্রাচীরের বাইরে ঘটেছে বলে খবর। হলদিয়া বন্দর থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ন্যাপথা কারখানায় পৌঁছয়। সেই পাইপলাইনটি কারখানার ভিতরে ঢোকার আগেই একটি জায়গায় আগুন লাগে।
সংস্থা প্রথম বিবৃতিতে জানায়, কারখানা লাগোয়া একটি জায়গায় দুর্ঘনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছেই একটি জায়গা ন্যাপথা চুরির সম্ভাব্য এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে সংস্থা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে অনুমোদনহীন উপায়ে পেট্রোপণ্য সংগ্রহ না করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের বার বার সতর্ক করা হয়েছে।
পরে আরও একটি বিবৃতিতে সংস্থা জানায় দুর্ঘটনায় কয়েকজন দগ্ধ হয়েছেন এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওই বিবৃতিতে পাইপলাইনে লিক হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের আবারও বিনা অনুমতিতে পেট্রোপণ্য সংগ্রহ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এই বিবৃতিতে ‘অননুমোদিত ন্যাপথা চুরির সম্ভাব্য স্থান’-এর কথা উল্লেখ করা হয়নি।
তদন্ত কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করেনি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খোঁজা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
এদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানান, ‘মঙ্গলবার ভোরে ন্যাপথার পাইপলাইনে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই রেললাইনের ধারে একটি বস্তি রয়েছে। পুলিশ ও দমকল যৌথভাবে উদ্ধার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।‘
পুলিশ সুপার জানান, ‘কয়েকজন আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর স্থানীয় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তমলুক স্থানান্তরিত কয়েকজনকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর কথায়, এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যারিকেড করা হয়েছে।‘