মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে এফআইআর, সনাতন ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তম মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গত বছর কলকাতায় একটি ইদের সমাবেশ থেকে সনাতন ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় নামে এক আইনজীবী এই এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাষণে, ‘গন্দা ধর্ম’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এই অভিযোগে শিলিগুড়ি সাইবার থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে ওই মন্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, তা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারত। রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, প্রথমে সাইবার থানায় তাঁর অভিযোগ গ্রহণই করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেড রোডে হিজাব পরে ইদের নামাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে হিন্দুধর্মকে নোংবা ধর্ম বলে মন্তব্য করেন। আমি যখন সাইবার শাখায় এফআইআর দায়ের করতে যাই, তা গ্রহণ করা হয়নি। আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এবং কয়েকদিন ধরে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়নি।‘

তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলায় দেওয়া কিছু বক্তব্যে হিন্দু ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘একজন হিন্দু ও সমাজকর্মী হিসেবে আমি নিজেকে নিরাপত্তাহীন মনে করছি এবং হামলার আশঙ্কা করছি। আমি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছি, যেখানে উস্কানি, হিংসায় প্ররোচনা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করলেও পরে অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতারও সীমা থাকা উচিত।‘


পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ভয় দেখানো, শান্তিভঙ্গের উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত অপমান এবং ধর্মী সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াতে পারে এমন বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ। পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ভয় দেখানো, শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিদ্বেষ ছড়াতে পারে এমন বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ।অভিযোগপত্রে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু বক্তব্যেরও উল্লেখ করা হয়েছে।

রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যাতে বোঝানো হয়েছিল, কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের যদি হিন্দুদের টার্গেট করে তবে তার কঠোর পরিণতি হবে। অভিযোগকারীর দাবি, এই ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি এবং সামাজিক বিভাজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন।