একধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বাড়ল সরকারি কর্মচারীদের, বড় উপহার বিজেপি সরকারের

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ১৮ শতাংশের উপর আরও ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সুতরাং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মোট মহার্ঘভাতা (ডিএ) হার দাঁড়াল ৩৮ শতাংশ। চলতি বছরের পয়লা অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হবে বলেও বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন থেকে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, আধা-সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জন্য বাজেটে বিরাট ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্য সরকারের কাজ ও নীতি রূপায়ণে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে এই মেগা প্যাকেজের ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা দেওয়ার পাশাপাশি পেনশন প্রাপকরাও সমহারে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ পাবেন। এই বর্ধিত মহার্ঘভাতা এবং ডিয়ারনেস রিলিফ আগামী পয়লা অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। রাজ্যের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। ওই প্রকল্পগুলি সমাজের গরিব শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য রাজ্য সরকারের বলে পূর্ণাঙ্গ বাজেটে জানালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অর্থমন্ত্রী সোমবার বিধানসভায় বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এই প্রকল্পগুলির প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’

অন্যদিকে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামোয় জোর দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির মূল স্তম্ভ। রাজ্যের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে আমাদের। রাজ্য সরকার নাগরিকদের কাছে পৌঁছতে ‘আপনার সরকার, আপনার পাশে’ নামে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা জাগরিত শক্তির প্রেরণার ভিত্তিতে আমাদের বাজেট রূপরেখা তৈরি করেছি। রাজ্যে মোট ঋণ রয়েছে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯১ কোটি টাকার।’


তাছাড়া শূন্যপদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘এক লক্ষ শূনযকোপদে নিয়োগ করা হবে। তাতে ৩৩ শতাংশ মহিলা নিয়োগ করা হবে। তার মধ্যে ২০ হাজার পুলিশ বিভাগ, ৫০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ইতিমধ্যেই ৫ বছর ছাড় দেওয়া হবে। এই সুবিধা পরবর্তী ২ বছরের জন্য বহাল থাকবে। বিধায়ক তহবিল ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১ কোটি টাকা করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে।’