সোমবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা হারিয়েছে এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে। এই পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের দাবি, স্বাস্থ্যভবন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গত কয়েক বছরে যেসব আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলির প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
চিকিৎসক প্রতিনিধি ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথি, ফাইল ও সামগ্রী অপরিবর্তিত অবস্থায় সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের মতে, বিদায়ী প্রশাসনের কিছু অংশ এই সময়কে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরিয়ে ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যৎ তদন্ত প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, যেসব আধিকারিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের উপর নজরদারি বাড়াতে হবে এবং কোনওভাবেই যাতে তারা নথি নষ্ট বা সরাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় দেড় বছর আগে আর জি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই স্বাস্থ্য দপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম সামনে আসতে শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটেই বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
সম্প্রতি মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জারি হওয়া এক নির্দেশিকায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় কঠোর তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, চিকিৎসকদের মতে শুধুমাত্র তল্লাশি নয়, নথি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থাও জরুরি।