তেহট্টে ভেজাল পেট্রল-ডিজেলের কারখানায় পুলিশের হানা, উদ্ধার ২০ ড্রাম নকল জ্বালানি

পেট্রল পাম্পের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছিল জ্বালানি। রমরমিয়ে চলছিল কারবার। কম দামে জ্বালানি বিক্রির এই খবর পৌঁছেছিল পুলিশের কানেও। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের উপর ভিত্তি করে একটি ভেজাল পেট্রল ও ডিজেল তৈরির কারখানায় অভিযান চালাল তেহট্ট থানার পুলিশ। সেই অভিযানেই ধরা পড়ল নকল জ্বালানি বিক্রির একটি অবৈধ চক্র। নদিয়ার তেহট্টের মালিয়াপোতা এলাকার ঘটনা।

জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে নদিয়ার তেহট্টের মালিয়াপোতা এলাকায়  একটি ভেজাল পেট্রল ও ডিজেল তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় তেহট্ট থানার পুলিশ। ওই কারখানা থেকে প্রায় ২০ ড্রাম নকল পেট্রল-ডিজেল এবং নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে কারবারের মূল মাথার হদিশ পায়নি পুলিশ। পুলিশি অভিযানের আগাম খবর পেয়েই মূল অভিযুক্ত বাপন শেখ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। আপাতত গোডাউনটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাপড়া থানার বাঙালঝি এলাকার বাসিন্দা বাপন দীর্ঘদিন ধরে মালিয়াপোতায় একটি ভাড়া নেওয়া গুদামঘরে এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছিল। অভিযোগ, সেখানে কেরোসিন জাতীয় তরল পদার্থের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক এবং রং মিশিয়ে পেট্রল ও ডিজেলের মতো দেখতে জ্বালানি তৈরি করা হতো। পরে সেই ভেজাল জ্বালানি ড্রামে ভরে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো।


এলাকাবাসীর দাবি, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে এই জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় বহু গাড়িচালক ও ব্যবসায়ী তা কিনতেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভেজাল জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির ইঞ্জিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি দাহ্য রাসায়নিক মেশানো থাকায় অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও বহুগুণ বেড়ে যায়।

এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত, এর পেছনে কোনও বৃহত্তর চক্র রয়েছে কি না এবং ভেজাল জ্বালানি কোথায় কোথায় সরবরাহ করা হতো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পলাতক মূল অভিযুক্ত বাপন শেখের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, বাপনকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই চক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে রয়েছে। সাধারণের আশা দ্রুত এই পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। তবে তারই মধ্যে এই ঘটনার জেরে রীতিমত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের যোগ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।