নিষিদ্ধপল্লিতে বসবাস, প্রেমের সম্পর্ক, আর তার আড়ালে পরিকল্পিত ভুয়ো পরিচয় তৈরির ছক। এসআইআর আবহে পাসপোর্টের আবেদন করতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশি এক অনুপ্রবেশকারী তরুণীকে ভারতীয় নাগরিক সাজাতে জাল নথি তৈরির অভিযোগে সালানপুর এলাকা থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম ছোটন সেন। তাঁর বাড়ি সালানপুরের দেন্দুয়া অঞ্চলে। অভিযোগ, কোলি নামে এক বাংলাদেশি তরুণীকে ‘ময়না সেন’ পরিচয়ে ভারতে থাকার সমস্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ছোটন। শুধু নাম বদল নয়, নিজের কাকা-কাকিমাকেই ওই তরুণীর বাবা-মা সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল একের পর এক ভুয়ো নথি। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড— সবই বানানো হয়েছিল জাল তথ্যের ভিত্তিতে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ময়না সেন ওরফে কোলি কুলটির নিষিদ্ধপল্লি এলাকায় থাকতেন। দীর্ঘ দিন ধরে ভুয়ো পরিচয়েই সেখানে বসবাস করছিলেন তিনি। সম্প্রতি ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতেই ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় পান ওই তরুণী। সেই কারণেই বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। সেই লক্ষ্যেই পাসপোর্টের আবেদন করা হয়।
পাসপোর্ট যাচাইয়ের সময়ই ঘটে বিপত্তি। আবেদনে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে ভেরিফিকেশনে গিয়ে পুলিশ দেখতে পায় ময়না সেন সেখানে থাকেন না। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, নথিতে বাবা-মা হিসেবে দেখানো হয়েছে উৎপল সেন ও শুভঙ্করী সেনকে, যাঁরা আদতে ওই তরুণীর বাবা-মা নন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে উৎপল সেন স্পষ্ট জানান, তাঁদের কোনও কন্যাসন্তান নেই এবং তাঁদের নাম ব্যবহার করে ভুয়ো নথি তৈরির বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না।
এর পরেই ছোটন সেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সামনে তিনি স্বীকার করেন, ময়না তাঁর স্ত্রী নন। ২০১৯ সালে তাঁদের পরিচয় হয়। একসময় ওই তরুণী যৌনকর্মী হিসেবেও কাজ করতেন বলে দাবি। ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যেই দালালের মাধ্যমে ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরি করা হয়। তার পরে একে একে আধার, ভোটার কার্ড ও প্যান কার্ড বানিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছিল।
অবৈধ অনুপ্রবেশে সাহায্য, জাল নথি তৈরি এবং রাষ্ট্রীয় নথির অপব্যবহারের অভিযোগে ছোটন সেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ময়না সেন ওরফে কোলি পলাতক। তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।