বেসরকারি হাসপাতালে এবার তোলাবাজির অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধর

ICU Ambulance Photo-ANI

সরকারি হাসপাতালে দালালচক্র নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। এবার সরাসরি বেসরকারি হাসপাতালে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল। শুধু তাই নয়, রোগী নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সের কাছ থেকে মোটা টাকা চাওয়া হল। আর তা দিতে অস্বীকার করার জেরে অ্যাম্বুলেন্স চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে মারের চোটে মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং সঙ্গে থাকা টেকনিশিয়ান। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। রবিবার রাতে এমন ঘটনাই ঘটেছে দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে বলে অভিযোগ।

রোগী নিয়ে হাসপাতালে এলেই দিতে হবে টাকা! দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে এই ভাষাতেই চলছে সিন্ডিকেটরাজ। রবিবার রাতে একটি অ্যাম্বুল্যান্স সেখানে এলে তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে যেতে হলে দিতে হবে ৫ হাজার টাকা। এই কথা বলা হয়, অ্যাম্বুলেন্স চালককে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করতেই আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কেন এই টাকা দিতে হবে? প্রশ্ন করলে চালক-টেকনিশিয়ানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদেরকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে দুর্গাপুরের গান্ধী মোড় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়।

রবিবার বেশি রাতে এই ঘটনা ঘটলেও তা সামনে আসে সোমবার সকালে। বেশি রাতে দুর্গাপুরের গান্ধী মোড়ের বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছয় একটি আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্স। কিন্তু হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় অ্যাম্বুল্যান্সকে আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তখন সেখানকার অ্যাম্বুল্যান্স স্ট্যান্ডের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মানিক ধীবর ৫ হাজার টাকা দাবি করে। আর তোলাবাজির টাকা দিতে অস্বীকার করেন চালক। শুরু হয় তা থেকেই বচসা। তখনই অ্যাম্বুল্যান্সের চালক এবং টেকনিশিয়ানকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত হন টেকনিশিয়ান। তাঁকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।


তাছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালকও চিকিৎসাধীন। দু’জনের অবস্থাই বেশ সংকটজনক। এই বিষয়ে অ্যাম্বুল্যান্স মালিক নিজামুদ্দিন মল্লিক অভিযোগ করেন, ‘অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য রোগীর আত্মীয় ফোন করেন। অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতেই তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে রোগীকে যেতে বাধা দেওয়া হয়। আর প্রতিবাদ করলে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মানিক ধীবরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’ জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের অভিযোগ, ‘তৃণমূলের আমলে তোলাবাজি করত মানিক। এইসব তোলাবাজি চলবে না। আমরাও পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মানিক ধীবর।