চম্পাহাটিতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, গুরুতর দগ্ধ ৪ শ্রমিক

চম্পাহাটিতে ফের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে  গোটা এলাকায়। শনিবার দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে কারখানা সংলগ্ন এলাকা। ঘটনায় অন্তত চার জন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। প্রথমে আহতদের বারুইপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও  আহতদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় সকলকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওই বাজি কারখানায় বাজি তৈরির মশলায় ত্রুটি থাকার কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ চলাকালীন আচমকা একের পর এক বিকট শব্দ হতে থাকে। অন্তত দু থেকে তিন বার বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়, ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন আশপাশের বাসিন্দারা।

বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার একটি পাকা ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। অ্যাসবেস্টসের ছাউনি ছিন্নভিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বিস্ফোরণের অভিঘাতে পাশের আরও তিনটি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে কারখানাটি বসতি এলাকা থেকে কিছুটা দূরে থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা আরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি বারুইপুর জেলা পুলিশের আধিকারিকরাও এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। বিস্ফোরণস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কারখানার মালিক হিসাবে বিধান মণ্ডলের নাম উঠে এলেও, কারখানাটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেও চম্পাহাটিতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। নতুন বছরের শুরুতেই ফের একই ধরনের দুর্ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রশাসনের তদন্তে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নির্ধারিত হবে বলে আশা স্থানীয়দের।