পার্ক সার্কাস স্টেশনে রাতভর চলল উচ্ছেদ অভিযান, ভাঙা হল অবৈধ স্টল ও দোকান

শহরের অন্যতম ব্যস্ত রেল স্টেশন পার্ক সার্কাস স্টেশনে রাতভর চলল উচ্ছেদ অভিযান। শনিবার গভীর রাতে রেলওয়ের জমি ও প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্টল, দোকান এবং দখলদারি সরাতে এই বিশেষ অভিযান চালায় রেল কর্তৃপক্ষ। এদিন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স, সরকারি রেল পুলিশ, রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা অভিযান চালায়।

শনিবার রাতে একের পর এক অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্টল, টিনের ঘর, ত্রিপলের ছাউনি ও কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য গোটা এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


রেল সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা চলছিল। এর ফলে যাত্রীদের যাতায়াতেও বেশ সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত ঝুঁকিও বাড়ছিল। বহুবার সতর্ক করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন বুলডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রের সাহায্যে একে একে সমস্ত অবৈধ কাঠামো সরিয়ে ফেলা হয়।

জানা গিয়েছে, ওই দোকানগুলিতে থাকা বিভিন্ন সামগ্রীও সরিয়ে নেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি জায়গা সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করা হয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। রেল আধিকারিকদের দাবি, স্টেশনের সৌন্দর্যায়ন, যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং রেলের জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কেউ অবৈধভাবে দখল করতে না পারে, তার জন্য নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক আরপিএফ ও জিআরপি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিন বেশ কিছু দোকানদার ক্ষোভ উগড়ে তাঁদের জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চত্বরে অবৈধ দখলের কারণে যানজট, নোংরা পরিবেশ এবং নিরাপত্তার সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। উচ্ছেদের ফলে স্টেশন এলাকা অনেকটাই খোলামেলা হবে এবং যাত্রীরাও ভালোভাবে চলাচল করতে পারবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। রেলের জমি দখলমুক্ত রাখা এবং যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। পার্ক সার্কাস স্টেশনের এই অভিযানকে বৃহত্তর দখলমুক্তকরণ কর্মসূচির অংশ বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্টেশন চত্বরে সম্পূর্ণ নতুন চেহারা ফুটে উঠেছে। উচ্ছেদের পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও শুরু হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে পার্ক সার্কাস স্টেশন আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।