রাজ্যে পালাবদলের পরেই একাধিক জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজ্যে এভাবে হকার উচ্ছেদকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদও চড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে আসানসোল পুরনিগমের উদ্যোগে হাটন রোডে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, এদিন হাটন রোডের দুই ধারে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
পুরনিগমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই দোকানগুলিকে অবৈধ দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর আগে একাধিকবার নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান আর বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে সোমবার বুলডোজার দিয়ে দোকানগুলি ভেঙে ফেলা হয়।
এদিন উচ্ছেদ অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দোকান মালিকদের দাবি, এর আগেও বহুবার উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তখন উচ্ছেদ করা হয়নি। তাঁরা আশা করেছিলেন এবার কোনও না কোনওভাবে তাঁদের জীবিকা রক্ষা পাবে। কিন্তু আশা চূরমার করে সমস্ত দোকানগুলি ভেঙে ফেলা হয়।
দোকানদারদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাছেও আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে উচ্ছেদ অভিযান আটকানো সম্ভব নয় বলে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে দোকান সরাতে হবে বলেও তাঁরা জানিয়ে দিয়েছিলেন।
এভাবে উচ্ছেদের পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই দোকানগুলি থেকে যা রোজগার হত তা দিয়েই তাঁরা সংসার চালাতেন। দোকান ভেঙে যাওয়ার পরে তাঁরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেই সঙ্গে তাঁরা ভবিষ্যতে কীভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়েও দুশ্চিতার মধ্যে রয়েছেন।
দোকানদারদের একাংশের দাবি, তাঁরা গত ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে হাটন রোডে ব্যবসা করে আসছেন। এভাবে উচ্ছেদ হওয়ায় তাঁরা চিন্তা্য় পড়েছেন। উচ্ছেদ অভিযানের ফলে একদিকে রাস্তা দখলমুক্ত করার প্রশাসনিক উদ্যোগ সফল হয়েছে। অন্যদিকে, বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এলাকার ব্যবসায়ীদের একাংশ পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবসার জায়গারও দাবি তুলেছেন।