এসআইআর ট্রাইব্যুনালের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ঈশা খান চৌধুরী

এসআইআর ট্রাইব্যুনালের উপরে একরাশ ক্ষোভ উপড়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে তিনি মামলা দায়ের করেন। সাংসদের অভিযোগ, মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। বিশেষ করে মালদা জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলে অভিযোগ।

এদিন কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরী জানান, এসআইআর ট্রাইব্যুনালে মীমাংসা না হওয়ায় প্রায় ৩০ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ ভোট দিতে পারেননি। এর জন্য তাঁরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই হাইকোর্টের কাছে আবেদন এডজুডিকেশন ও ডিলিটের মধ্যে দিয়ে কত মানুষ আবেদন করেছিলেন এবং কতজন ভোটারের ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে? বর্তমানে কত জনের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে তা খতিয়ে দেখা।

এর পাশাপশি তিনি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র মালদা মুর্শিদাবাদ জেলার জন্য নয়, সারা রাজ্যে ট্রাইব্যুনালে কতজন মানুষ আবেদন জানিয়েছিলেন তা বিধানসভা ধরে ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তথ্য নিতে হবে। কারণ এই ৩০ লক্ষের মধ্যে বহু মানুষ এখনও ট্রাইব্যুনালের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁরা জানতে পারছেন না আগামী দিনে তাঁদের ভবিষ্যৎ কী? তাই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিক যাতে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনাল এই সমস্ত সমস্যাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করে। চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।


প্রসঙ্গত, ৪ নভেম্বর ২০২৫ সালে স্পেশাল ইনসেনটিভ রিভিশন(এসআইআর) শুরু হয়েছিল। রাজ্যে প্রথম দফায় এসআইআরে ১৬ নভেম্বর প্রথম তালিকা প্রকাশিত হয়। তাতে ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ চলে গিয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বহু মানুষের নাম ডিলিট হয়ে যায়। এরপরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেন। সেই মতো কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল প্রাক্তন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সেই কমিটি একটি এসওপি তৈরি করবে। সেই মোতাবেক এসওপি তৈরি করা হলেও রাজ্যের প্রথম দফা নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ৩০ লক্ষের কাছাকাছি ভোটার ভোট দিতে সক্ষম হন। কিন্তু আজও বহু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর তাই আদালতের দারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ।