• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 3 July, 2026

রাজ্যজুড়ে অভিযান এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের

নবান্নের নির্দেশে গ্যাস সঙ্কটে তৎপর প্রশাসন

রাজ্যজুড়ে অভিযান এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের

রাজ্যে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই তৎপর হল প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে এসওপি জারি করা হয় এবং খোলা হয় কন্ট্রোল রুম। তারপর থেকেই শহর ও জেলায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। শুক্রবার থেকে বিভিন্ন গ্যাস ডিলারের দপ্তর ও গুদামে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।

এদিন সকালে কলকাতার লর্ডস মোড় এলাকার একটি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দপ্তরে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকেরা। সেখানে গ্যাসের মজুত, সরবরাহের পরিমাণ এবং গ্রাহকদের বুকিংয়ের হিসাব খতিয়ে দেখা হয়। রেজিস্টার পরীক্ষা করে দেখা হয় কোথাও কোনও গরমিল রয়েছে কি না বা কালোবাজারির অভিযোগ আছে কি না।

শুধু কলকাতাই নয়, জেলাগুলিতেও একই ধরনের তদারকি শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদু এলাকায় একটি গ্যাস গুদামে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযোগ ছিল, সেখানে প্রচুর সিলিন্ডার মজুত থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা গ্যাস পাচ্ছেন না। বারাসত পুলিশ জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে। যদিও ডিলারদের দাবি, কোনও গরমিল নেই এবং নিয়ম মেনেই সিলিন্ডার রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, জলপাইগুড়ির একটি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দপ্তরে নোটিস টাঙিয়ে জানানো হয়েছে, ৯ মার্চের পরে যারা বুকিং করেছেন তাদের আপাতত সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তী পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ হলে তবেই সিলিন্ডার দেওয়া হবে। হুগলির চুঁচুড়া, ব্যান্ডেলসহ একাধিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মহকুমা শাসকের নেতৃত্বে পুলিশ
ও প্রশাসনের বিশেষ দল অভিযান চালিয়েছে।

গ্যাস ডিলারদের দাবি, গ্রাহকরা আতঙ্কিত হয়ে যে অতিরিক্ত বুকিং করছে তাতেই সমস্যা আরও বাড়ছে। আগে যেখানে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ বুকিং হত, এখন তা হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ আগের মতোই রয়েছে। ফলে চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক গ্রাহক গ্যাস না পেয়ে সরাসরি ডিলারের অফিসে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেও গ্যাস বুক করতে পারছেন না বা বুকিংয়ের পরেও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। স্কুলের হস্টেল, মা ক্যান্টিন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও রান্নার জন্য সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার কাঠের উনুন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

তবে বড় হাসপাতালগুলিতে আপাতত গ্যাসের ঘাটতি দেখা যায়নি বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।