ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তথা সিএএ চালু করার প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগোল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে একটি ‘এমপাওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের ঘোষণা করেছে। এই কমিটিই সিএএ-র আওতায় জমা পড়া নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই করে অনুমোদন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেবে। মতুয়া সম্প্রদায়ের যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, তাঁদের ভোটের আগেই নাগরিকত্ব দিতে চাইছে সরকার।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর ৬বি ধারা ও নাগরিকত্ব বিধি ২০০৯ অনুযায়ী এই কমিটি কাজ করবে। কমিটির প্রধান হবেন ডিরেক্টরেট অফ সেন্সাস অপারেশনস, পশ্চিমবঙ্গের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল। সদস্য হিসেবে থাকবেন সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এক ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার আধিকারিক, সংশ্লিষ্ট ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের প্রতিনিধি, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার (আন্ডার সেক্রেটারির নিচে নয়) এবং পোস্টমাস্টার জেনারেল বা তাঁর মনোনীত আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও রেল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন।
কেন্দ্রের দাবি, এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সিএএ বাস্তবায়নের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ হল। ১১ মার্চ ২০২৪-এ সারা দেশের জন্য যে কাঠামো ঘোষণা হয়েছিল, তা রাজ্যস্তরে কার্যকর করতে এই কমিটি ছিল অপরিহার্য। সিএএ অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-র আগে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা নির্যাতিত অমুসলিম শরণার্থীরা—হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান—ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিশেষত মতুয়া সম্প্রদায়ের আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি হলে তার প্রভাব আসন্ন নির্বাচনী সমীকরণে পড়তে পারে। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই এই আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে আসছে, ফলে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।