দুর্গাপুজোর পরেই কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরসভার নির্বাচন, কিন্তু বাধ সেধেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অপ্রতুল আধিকারিক নিয়ে। সব রকম প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছে, অপেক্ষা এখন শুধুই রাজ্য সরকারের নির্দেশের উপর।
রাজ্যে পালাবদলের পর এবার রীতিমতো নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকারের সব দপ্তরগুলি। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে কমিশনার পদটি ফাঁকা পড়েছিল। গত ৩০শে জুন নতুন নির্বাচন কমিশনার হয়েছেন কৃষ্ণা গুপ্তা। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব পদে কোনও আধিকারিক নেই। ফলে প্রস্তুতি সব দিক থেকে সারা হয়ে গেলেও চিন্তার ভাঁজ এখনও পর্যন্ত রয়ে গিয়েছে খোদ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কপালে।
তবে হাত গুটিয়ে বসে নেই নির্বাচন কমিশনের কৃষ্ণা গুপ্তা। ইতিমধ্যেই তিনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কাজ শেষ করে ফেলেছেন। একদিকে ইভিএম, অন্যদিকে ভোটার তালিকা, পাশাপাশি এলাকা বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন—এসব কিছু নিয়েই রীতিমতো তোরজোড় শুরু করে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এলাকা বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের কাজ করবে রাজ্য সরকার। তবে যে ভোটার তালিকার ওপর নির্ভর করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে, তা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তালিকার ওপর ভিত্তি করেই।
কেবলমাত্র তাই নয়, বর্তমানে যেভাবে পট পরিবর্তনের পালা চলছে, সেক্ষেত্রে সর্বদলীয় বৈঠক করতে গেলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এক্ষেত্রেও নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর। আর সেই মোতাবিক যতগুলি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি লাভ করেছে, কেবলমাত্র তাঁদেরকেই ডাকা হবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সর্বদলীয় বৈঠকে।
সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসে এখন যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে আদপে কবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হবে, সেই সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তালিকার উপর নির্ভর করেই।
অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই দেশের সব রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, কত সংখ্যক ইভিএম তাঁরা দিতে পারবেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি সব জেলার সঙ্গে জোড়কদমে বৈঠক হয়ে গিয়েছে। তবে দুর্গাপুজোর পর কলকাতা পুরসভা এবং হাওড়া পুরসভার নির্বাচন যে হতে চলেছে, তা এক প্রকার নিশ্চিত, এমনটাই খবর রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে।