আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এক দফায় হওয়া কার্যত অসম্ভব—এমনই ইঙ্গিত মিলছে কমিশন সূত্রে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, গোটা রাজ্যে একই দিনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে যে পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজন, সেই সংখ্যক বাহিনী একসঙ্গে পাওয়া কঠিন। ফলে পর্যাপ্ত বাহিনী নিশ্চিত করতেই একাধিক দফায় ভোটের ভাবনা এগোচ্ছে।
এদিকে প্রস্তুতিতে বাড়তি জোর দিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর। সাম্প্রতিক কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে এবারের ভোটে কড়া নজরদারির রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগের চেয়েও উন্নত মানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং কার্যকর থাকে।
বিগত নির্বাচনে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের কথা থাকলেও বহু বুথে তা বাস্তবে হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই ফাঁকফোকর বন্ধে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ও রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে বিশেষ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হয়েছে। তাঁরা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার শিফটে শুধু ওয়েবকাস্টিং নজরদারি করবেন। দায়িত্ব শেষের আগে লিখিত রিপোর্ট দিয়ে তবেই সই করবেন—কোনও অনিয়ম চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ জারি হবে।
সোমবার ভিডিও বৈঠকে কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অযথা বসিয়ে রাখা বা ভুল পথে চালিত করা চলবে না। এ ক্ষেত্রে গাফিলতি প্রমাণিত হলে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৯ ও ১০ মার্চ কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এসে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবে। সেই বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে, কত দফায় ভোট এবং কী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন নজর, কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে।