৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরাল নির্বাচন কমিশন

ফাইল ছবি

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে একযোগে রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সোমবার রাতেই এই নির্দেশিকা প্রকাশ পায়, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সাধারণত প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন, যাঁদের উপরই প্রার্থী মনোনয়ন গ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট প্রক্রিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। রাজ্যে মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩টি কেন্দ্রে এই পরিবর্তন কার্যকর হওয়ায় নির্বাচনী প্রশাসনে বড় প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বদলি হওয়া অধিকাংশ আধিকারিকই মহকুমাশাসক বা এসডিও পদে কর্মরত ছিলেন।

এই রদবদলের আওতায় তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগের মতো উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল যেমন রয়েছে, তেমনই ব্যারাকপুর, বিধাননগর, বারাসাত, ক্যানিং, বারুইপুর, আলিপুর, হাওড়া সদর ও হুগলি সদরেও নতুন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা, ঘাটাল, দুর্গাপুর ও আসানসোলেও এই পরিবর্তন ঘটেছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও রিটার্নিং অফিসার বদলের খবর সামনে এসেছে।


উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই রাজ্যের জেলাশাসক, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বদল আনা হয়েছিল। ফলে নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস একপ্রকার ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। এই অভিযোগ করে আসছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন যত এগোচ্ছে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও ততই বাড়ছে।