বিধানসভা নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। অ্যাপলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য। কিন্তু কিছু মানুষের তা উঠলেও বেশিরভাগ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি বলেই অভিযোগ। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। সুতরাং জট এখনও কাটেনি। যাঁরা পুনরায় বিবেচনার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই আবেদনের শুনানি হয়নি এখনও। এবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল, অ্যাপলেট ট্রাইব্যুনালের এই গতিতে শুনানি হলে ১২ বছর সময় লেগে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নাম তোলার সমস্যার সমাধান করতে ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন। এখন ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রয়েছে ১৯। সেটা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৪২ করতে চায় নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে আছে ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র। প্রত্যেকটি লোকসভা কেন্দ্রে একটি করে ট্রাইব্যুনাল গড়তে চায় নির্বাচন কমিশন। কারণ ট্রাইব্যুনালে পড়ে থাকা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতেই এমন উদ্যোগ বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, ‘যে গতিতে অ্যাপলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদনের বিচার হচ্ছে তাতে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের আবেদনের বিচার করতে ১২ বছর সময় লাগবে।’
আপেলেট ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ১৯ থেকে বাড়িয়ে ৪২ করার আবেদন হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জুডিশিয়াল অফিসারদের তাঁদের বাসভবন অথবা যে কোনও জায়গা থেকে অনলাইন শুনানি করার অনুমতি দেওয়ার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। তাই সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয় আপডেট করার নির্দেশ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে হলফনামায়। নির্বাচন কমিশনের তৈরি বিশেষ সফটওয়ারকেও কাজে লাগাতে চায়। ‘লোকেশন-অ্যাগনস্টিক’ নামে ওই সফটওয়ারের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা যেখানে খুশি বসে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া আবেদন পরীক্ষা তথা বিবেচনা করতে পারবেন। তার জেরে ট্রাইব্যুনালের নির্দিষ্ট অফিসে বিচারপতিদের সশরীরে না গেলেও চলবে। বাড়িতে বসেও কাজ করতে পারবেন।
তাছাড়া হলফনামা অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ১,২৬,১৯৪টি আপিলের মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ আপিলে আবেদনকারীর নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ১.২ লাখের মধ্যে ৮,৬৪৯ জন আপিলে হেরেও গিয়েছেন। তাই তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ার পর বাদ পড়া ২৭ লাখ মানুষের মধ্যে ২২ লক্ষ ২১ হাজার ১১৮ জন আপিল করেন। আবেদনকারী এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মোট আপিলের সংখ্যা ১৬,১০,৩১১। ২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে ১৩টি মামলার শুনানি।