ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বুথস্তরের আধিকারিকদের নতুন দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যাঁদের তথ্য কোনও কারণে ম্যাপিং হয়নি, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে যাচাই করতে হবে বিএলও-দের। শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই চলবে না, সেই তথ্য অনলাইনে আপলোড করার পাশাপাশি ‘সার্টিফাই’ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় থাকা বহু ভোটারের নাম প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বর্তমান তালিকার সঙ্গে মিলছে না। সেই কারণেই তাঁদের একটি বড় অংশকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ভোটারদের শুনানিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিএলও-রাই ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে যাচাই করবেন এবং নতুন করে তথ্য আপলোড করবেন।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে গত ৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে ১১ ডিসেম্বর এনুমারেশন পর্ব শেষ হয়। তার পরে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় খসড়া ভোটার তালিকা। সেই তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হবে।
এর পাশাপাশি কমিশন শুরু করেছে ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ সংক্রান্ত যাচাইয়ের কাজ। এই ক্ষেত্রে এমন ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের বাবার নাম একই এবং ছয়ের বেশি ভোটারকে একই অভিভাবকের সন্তান হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, কোনও কোনও ক্ষেত্রে একই বাবার নামে ১০০ জন ভোটার পর্যন্ত নথিভুক্ত রয়েছেন। এই ধরনের ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ তালিকায় প্রায় ২৪ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। তাঁদের শুনানির জন্য নোটিস তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং শীঘ্রই নোটিস বিলির কাজ শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই নতুন নির্দেশে বুথস্তরের আধিকারিকদের দায়িত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও কড়া নজরদারির ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।