বিধানসভা ভোটের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্তের পথে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার ভোটে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীকে অনেকটাই স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে তারা সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারবে বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেখানে ঠিক হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কমান্ড্যান্টের নেতৃত্বে বাহিনী মোতায়েন থাকবে। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করলেও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তারা। এমনকি কোথাও বিক্ষোভ বা গোলমালের পরিস্থিতি তৈরি হলে ঊর্ধ্বতন নির্দেশের অপেক্ষা না করেই লাঠিচার্জের মতো পদক্ষেপ করা যেতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
ভোটের সময় নিয়মিত রুট মার্চ করার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। কোনও এলাকায় অশান্তির আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে বাহিনী। এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য তাদের গাড়িতে সিসিটিভি বসানো থাকবে। পাশাপাশি দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছতে বাইক ব্যবহারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা ও হাওড়া জেলায় এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ বার আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে লাঠিও তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ লাঠি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
যদিও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবুও ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই বাড়তি ক্ষমতা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।