ভোটের প্রচারের মাঝেই মানবিক এক ঘটনার সাক্ষী রইল বারাবনি। তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়ের প্রচার কর্মসূচিতে হঠাৎই এক বৃদ্ধার কান্নায় থমকে যায় পুরো পরিবেশ। প্রচারের মাঝেই আচমকা প্রার্থীর পা জড়িয়ে বসে পড়েন তিনি। বৃদ্ধার কাতর আর্জি, ভোটার তালিকায় যেন আবার তাঁর নাম তোলা হয়। সরকারি নথিতে তাঁকে মৃত বলে দেখানো হয়েছে। তার ফলে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাঁর নাম।
এদিন রূপনারায়ণপুরের সীমান্তপল্লির বাসিন্দা প্রায় ৯০ বছরের দুর্গা রায় ভিড় ঠেলে এসে প্রার্থীর পা জড়িয়ে ধরেন। একাই বসবাস করা ওই বৃদ্ধার ছেলে মারা গিয়েছেন বহুদিন আগে। তাঁর মেয়েরাও আলাদা সংসারে। এরই মাঝে এতদিন নিয়ম করে ভোট দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন দুর্গা দেবী। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি তো বেঁচে আছি, তবে কেন আমার নাম কেটে দেওয়া হল? নাম না থাকলে আমি ভোট দেব কী করে? নিজের ভিটেতেই থাকব কী করে?’ এই প্রশ্ন নিয়েই তৃণমূল প্রার্থীর পা জড়িয়ে বসে পড়েন তিনি।
এই আবেগঘন মুহূর্তে প্রচার থামিয়ে তাঁকে আশ্বাস দেন বারাবনির তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়। এরপর ব্লকের দলীয় নেতৃত্বকে নির্দেশ দেন যত দ্রুত সম্ভব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যাতে দুর্গা রায়ের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় যোগ হয়, সেই জন্য সমস্ত সাহায্য করতে হবে। বিধান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় রয়েছে। তাঁরা থাকলে কেউ বঞ্চিত হবেন না।’ তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।