আগামী ৮ নভেম্বর কালীপুজো। রাজ্যজুড়ে মানুষ তাতে মেতে উঠবেন। শহরে কালীপুজো কম হয়। কিন্তু গ্রামবাংলার নানা জায়গায় কালীপুজো হয়ে থাকে। এই আবহে এখন থানায় থানায় বিজয়া সম্মেলনী হচ্ছে। এবার প্রত্যেক থানায় কালীপুজোও হোক। বৃহস্পতিবার বীরভূম জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ থেকে এমনই প্রস্তাব দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এমনকী পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার বার্তাও দিলেন তিনি। এদিন শিক্ষকদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়েও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। থানায় থানায় কালীপুজোর প্রস্তাবে খুশি পুলিশ অফিসাররা।
এদিকে কালীপুজো নিয়ে নবান্নে এদিন বৈঠকও হয়েছে। সেখানে নিরাপত্তা এবং নিষিদ্ধ বাজি নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এদিন বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার একটা আবেদন থাকবে। থানায় থানায় যখন বিজয়া সম্মেলনী হচ্ছে তখন এবার প্রত্যেক থানায় কালীপুজোও হোক।’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে রঘু ডাকাতের কথাও টেনে আনেন তিনি। আর তারপরই উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, ‘রঘু ডাকাতও ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে কালীপুজো করতেন। বীরভূমের শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠ সংলগ্ন থানাগুলিতে বিশেষভাবে কালীপুজোর আয়োজন করার জন্য পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করছি।’
অন্যদিকে কালীপুজো নিয়ে পুলিশ প্রশাসন এখন থেকে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয় এবং সুরক্ষা থাকে নিশ্ছিদ্র। এটা বিজেপি সরকারের কাছে প্রথম কালীপুজো। তাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক তা চান না তাঁরা। তাই থানায় কালীমূর্তি রাখার পক্ষেও সওয়াল করে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘থানায় কালীমূর্তি থাকলে চোরও থানায় ঢুকে মা কালীর দর্শন পাবে। আবার পুলিশ কোনও অভিযানে বের হওয়ার আগে মা কালীর কাছে প্রণাম করে যেতে পারবে।’ যদিও থানায় কালীপুজো হলে অফিসাররা ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাছাড়া গতকাল নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নতুন যেসব শিক্ষকরা নিয়োগ হবেন তাঁরা সক্রিয় রাজনীতি করতে পারবেন না। এবার তা নিয়েও কিছু কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘শিক্ষকদের কাজ পড়ানো, রাজনীতি করা নয়। একসময় বীরভূমকে নিয়ে রাজ্যে নানা আলোচনা হতো। এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত এবং পুলিশ নিজের কাজ করছে। অতীতে পুলিশের উপর রাজনৈতিক চাপ থাকত। বিজেপির কোনও নেতা বা মন্ত্রীর প্রভাবে যেন পুলিশ সুপার প্রভাবিত না হন। পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীতে অনেক থানার আইসি জেলা চালাতেন। পুলিশ এমনভাবে কাজ করুক, যাতে গোটা রাজ্যের মধ্যে বীরভূম জেলা পুলিশ সেরার জায়গা করে নিতে পারে।’