অন্নপূর্ণার পোর্টালে এবার থেকে এডিট অপশন, জানা যাবে বঞ্চিত হওয়ার কারণ

Photo: File Photo

রাজ্যে পালাবদলের পরে সব থেকে আগে শিরোনামে উঠে এসেছিল তা ছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। কারণ বিজেপির প্রতিশ্রুতিই ছিল ক্ষমতায় এসে মহিলাদের দেওয়া হবে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে। আর ক্ষমতায় আসার পরেই দ্রুত রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প চালু করেছে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি সরকার। বুঝিয়ে দিয়েছে প্রতিশ্রুতি বজায় রাখতে কতটা বদ্ধপরিকর তারা।

তবে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে একাধিক শঙ্কাও উঠে আসছে। অনেকেই ফর্ম ফিল আপ করেও এই সুবিধা পাননি। আবার অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরুও করেছে। এই নিয়ে আমজনতা রীতিমত ধন্দ্বে রয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ভাবেই হয়তো মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তার প্রকল্প বন্ধও হয়ে যাবে!  তবে নবান্ন অভয় দিয়ে জানাল, এমন শঙ্কার কোনও কারণ নেই।  রাজ্যের এক কোটির বেশি মহিলা মাসিক তিন হাজার টাকা যেমন পাচ্ছেন, পাবেন।  পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টালে যুক্ত করা হচ্ছে নতুন একটি অপশন।  এ বার থেকে ‘এডিট’ করা যাবে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য দেওয়া তথ্য।

নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের কোষাগারের অবস্থা যে ‘খুব খারাপ’, এই তথ্যে কোনও ভুল নেই।  তবে অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্প চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে বিশেষ সমস্যায় পড়তে হবে না।  উল্লেখ্য, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।  ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি ‘যোগ্য’ মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন।


আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দিত প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলাকে।  প্রতি মাসে গড়ে দেড় হাজার টাকা করে পেতেন এক একজন।  শুধু লক্ষ্মীর ভান্ডারে সরকারের মাসিক ব্যয় হত ৩,৩০০ কোটি টাকার আশপাশে।  বছরে ব্যয় হত ৩৯,৬০০ কোটি।  নবান্নের ব্যাখ্যা, এখন তথ্যতালাশ করে দেখা গিয়েছে অনেক ‘অযোগ্য’ ওই আর্থিক সুবিধা পেতেন।  রোজগেরে গিন্নিরাও লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন।  সরকারি কর্মী, আয়করদাতা এমন মহিলাদের অন্নপূর্ণার সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।  প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন রাজ্যের ১ কোটি ৭০ লক্ষ মহিলা।  প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে দিলে সরকারের মাসিক ব্যয় পড়ছে মোটামুটি ৫,১০০ কোটি টাকা।  প্রতি অর্থবর্ষে খরচ ৬১,২০০ কোটি টাকা।  তবে রাজ্যে এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা রয়েছে।  খরচ বাড়লেও ঘাটতি হবে না বলে মত বিজেপি নেতৃত্বের।

গত রবিবার মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ মহিলার আবেদন জমা পড়েছে।  ১ কোটি ২২ লক্ষ আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।  বাতিল হয়েছে ২৭ লক্ষের বেশি আবেদন।  আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার বাতিল হওয়া আবেদনপত্র যাচাইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

আবার জেলায় জেলায় অন্নপূর্ণা-না পাওয়া নিয়ে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, সেটাও অচিরে মিটে যাবে বলে আশ্বস্ত করছে নবান্ন।  কারণ, শীঘ্র‌ই অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালে চালু হয়ে যাচ্ছে ‘এডিট’ অপশন।  ইতিমধ্যে বাতিল হওয়া আবেদনকারীরা সেখানে গিয়ে নতুন করে বেশ কিছু তথ্য যোগ করতে পারবেন।  প্রথম বার ফর্ম পূরণে যে ভুল করেছেন, সেগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

বাতিল হওয়া আবেদনকারীদের নিয়ে আমলাদের ব্যাখ্যা, আয়কর দেন‌ এবং আর্থিক সঙ্গতি রয়েছে এমন আবেদনকারীদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে।  তবে তার পরিমাণ খুব বেশি নয়।  বাদ যাওয়ার বড় কারণ আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর।

নবান্ন সূত্রে খবর, এমন অনেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, যাঁদের আধার কার্ডের সঙ্গে নিজের মোবাইল নম্বর যুক্ত করা নেই।  আবার কোনও ক্ষেত্রে থাকলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নেওয়ার সময় তাঁরা অন্য একটি নম্বর দিয়েছেন।  আবার এমন তথ্য-ও পাওয়া গিয়েছে, যেখানে আবেদনকারীর আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত করা রয়েছে।  কিন্তু ওই একই নম্বর তিনি পিএম কিষানের মতো প্রকল্পের সুবিধা নিতে ব্যবহার করেছেন।  মোট কথা, বিভিন্ন‌ সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করায় অন্নপূর্ণা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে।  তাই যোগ্য আবেদনকারীদের বাছতে খানিক সময় লাগলেও দেরি হবে না।  যোগ্যদের ভয় পাওয়ারও কারণ নেই।‌  প্রকৃত যোগ্যেরা অবশ্যই অন্নপূর্ণার তিন হাজার টাকা পাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।

জেলায় জেলায় অন্নপূর্ণার টাকা না-পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে নবান্নের আরও একটি তথ্য এবং ব্যাখ্যা রয়েছে।  এমন অনেক মহিলা রয়েছেন, যাঁরা জুন মাসে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন।  অথচ জুলাই মাসে অন্নপূর্ণার টাকা ঢোকেনি অ্যাকাউন্টে।  প্রশ্ন তুলে ক্ষোভপ্রকাশ করছেন তাঁরা।  নবান্নের কর্তারা বলছেন, আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন এমন অনেক আবেদনকারীকে জুন মাসে টাকা দেওয়া হয়েছে।  কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের পর দেখা যাচ্ছে, আগে গরমিল ছিল।  এক আমলার কথায়, ‘এমন বেশ কিছু কেস রয়েছে, যেখানে আমরা টাকা পাঠাতে গেলেও যাচ্ছে না।  এখন ‘এডিট’ অপশন চালু হচ্ছে।  এ বার সমস্যা মিটবে।’  কী ভাবে?

এত দিন কেন তাঁর আবেদন বাতিল হল, জানতে পারছিলেন না আবেদনকারীরা।  অন্নপূর্ণা প্রকল্পের অধীনে ভাতা পাওয়ার যোগ্য কি না, সেটা এ বার নিজেই পরখ করে নিতে পারবেন মহিলারা।  অন্নপূর্ণা থেকে যাঁদের নাম কাটা গিয়েছে, কেন তাঁরা বাদ গেলেন, সেই তথ্য‌ও জেনে নিতে পারবেন।  পোর্টালে লগ ইন করে তা জানতে হবে।  ফলে শীঘ্র‌ই বিভ্রান্তি কাটবে বলে মনে করছে প্রশাসন।