ভোটের মুখে পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে সুজিত-রথীনকে ইডির তলব

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ-কে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দুই মন্ত্রীকেই শনিবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে সুজিত বসুকে তৃতীয়বার এবং রথীন ঘোষকে দ্বিতীয়বার নোটিস পাঠাল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নোটিস অমান্য করলে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, চলতি বিধানসভা নির্বাচনে সুজিত বসুকে বিধাননগর এবং রথীন ঘোষকে মধ্যমগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারই মধ্যে দুই মন্ত্রীকে ইডির নোটিস ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে দুই মন্ত্রীই বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকায় ১৫ মে-র পর হাজিরার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে ইডি। ফলে ভোটের আবহে এই তলব ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।

এর আগে জমি দখল মামলায় রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকেও তলব করেছিল ইডি। তাঁকে ইতিমধ্যেই তিন দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একই মামলায় রথীন ঘোষও তদন্তের আওতায় রয়েছেন। গত বুধবার তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে যাননি। পরে আবার শনিবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ভোটের আগে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।


পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে রথীন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি এবং তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সুজিত বসু-র দপ্তর ও বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। দমকলমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের বাড়ি ও অফিসেও তল্লাশি হয়েছিল।

বহুদিন পর ফের ভোটের মুখে দুই মন্ত্রীকে তলব করা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভিযোগ, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতেই এই নোটিস পাঠানো হয়েছে’। দলের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তবে এতে উল্টে জনগণের সমর্থন আরও বাড়বে বলেই মত তাদের।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, দুর্নীতির তদন্তে ইডি নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।