ভোটের মুখে কলকাতায় ফের বড়সড় অভিযানে চালাল ইডি। বুধবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা নগদ বিপুল অর্থ উদ্ধার করেন। সূত্রের খবর, বেহালায় এক ঠিকাদার সংস্থার কর্তার বাড়ি থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে।
বুধবার সকাল থেকেই সোনা পাপ্পুর সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালান ইডির আধিকারিকেরা। ইডি সূত্রে খবর, কসবা, বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন সোনা পাপ্পু।ইডি সূত্রে খবর, কসবা ও বালিগঞ্জ-সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত একাধিক গোষ্ঠীর উপর তাঁর প্রভাব রয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তিনি তা প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে দিতেন। এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই অভিযান।
তল্লাশি চালানো হয় সোনা পাপ্পুর বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায়। বালিগঞ্জের একটি ঠিকাদার সংস্থার অফিসেও অভিযান চালানো হয়। ওই সংস্থার কর্তা জয় কামদারের বেহালার বাড়ি থেকেই নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, সোনা পাপ্পুর নাম এর আগেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছে। রবীন্দ্র সরোবরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁর নাম সামনে আসে। যদিও তিনি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে আয়কর দপ্তর এবং পুলিশ যৌথভাবে পার্ক স্ট্রিট তল্লাশি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার এবং ৩ লাখ থাই ভাট।
ভারতীয় মুদ্রায় যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকেও পার্ক স্ট্রিটে প্রায় সমপরিমাণ মার্কিন ডলার ও থাই ভাট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়।