ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব, তিন অভিযুক্তের ১৫ মিনিটের কথোপকথন, সিবিআইয়ের চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জেরা ইডির

প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে ইডি। হাজিরাও দিয়েছেন তিনি।ইডি সূত্রের খবর, আদালতে দেওয়া সিবিআইয়ে তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। সেখানে টেলিফোনে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ করা হয়েছিল। তাতে একাধিকবার অভিষেকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সেই অভিষেক কি না তাই জানতে সরাসরি তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকু ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাশাপাশি, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুন্তল ঘোষকে সিবিআই হেফাজতে নিয়েছিল। সিবিআইয়ের দাবি, ২০১৭ সালে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের বেহালার বাড়িতে শান্তনু এবং কুন্তলের সঙ্গে একটি বৈঠক হয়। তদন্তে নেমে সেখানকার একটি অডিও রেকর্ডিং সামনে আসে।

সেই অডিও রেকর্ডিংয়ে একাধিক বার তাঁরা অভিষেকের নাম উল্লেখ করেছেন। চাকরি বিক্রি করে অভিষেককে টাকা তুলে দেওয়ার কথাও তাঁরা বলছেন। তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকই সেই অভিষেক কি না তা জানতেই সোমবার তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি তলব করেছে। এ ছাড়াও, ওই কথপোকথন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


ওই অডিও রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরেই সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করতে চেয়ে ইডি আদালতে আবেদন করেছিল। বিচারপতি অমৃতা সিনহা তা সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অডিও রেকর্ডিংয়ে অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে ওঠা টাকার বিপুল অংশের দাবি অভিষেক করেন। তাঁকে কীভাবে সেই টাকা তুলে দেওয়া হবে, কোন প্রার্থীদের কাছ থেকে কত টাকা করে নেওয়া হবে, তা নিয়ে শান্তনু-কুন্তল-সুজয়কৃষ্ণেরা দাবি করেছিলেন। অভিযোগ, ঘুষের টাকা না দিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া  বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও অভিষেক হুমকি দিয়েছিলেন।

এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘুষের বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন বলে খবর পায় বলে জানতে পারে অভিষেক। এর পরেই সুজয়কৃষ্ণের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা দাবি করেন। তা কথপোকথন শোনা গিয়েছিল বলে সিবিআই অভিযোগ করেছিল। অভিষেককে সন্তুষ্ট করতে চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা করা হয়। সেই টাকার ভাগ অভিষেক, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন প্রাথমিক শিক্ষাপর্যদের চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যকে ২০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়। বাকি টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া হবে বলেও ঠিক হয়। সেই অভিষেক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না, তাঁর সঙ্গে বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, তা নিয়ে ইডি প্রমাণ জোগাড় করছে।

গোটা ঘটনার মূলে লিপস অ‍্যান্ড বাউন্স নামে একটি সংস্থার নাম জড়িয়েছে। এই সংস্থার ডিরেক্টর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন। এই সংস্থার মাধ‍্যমে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা শেয়ার বাজারে খাটানো হয়েছে বলেও ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই সংস্থার অপশন ট্রেডিং করে শেয়ার কিনত। এই সংস্থাটিকে নিয়ে আগেও ইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত বাকি সংস্থাগুলিকেও স্কানারের আওতায় আনতে চাইছে ইডি। তাই তাঁকে সকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।