ভোটার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যে যেসব পুলিশ আধিকারিকের বদলি হয়েছে এবং অবসরের পর যাঁদের পুনরায় কাজে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর যেসব পুলিশ আধিকারিকের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে, তাঁদের একটি বিস্তারিত তালিকা দিতে হবে। ওই দিনই ছিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। তবে যেসব বিষয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলি এই তালিকার বাইরে রাখা যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে রাজ্য পুলিশের আইন শাখার অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এবং নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত রাজ্য পুলিশের নোডাল আধিকারিকের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও নির্বাচন কমিশন জানতে চেয়েছে, অবসর নেওয়ার পর কোন কোন পুলিশ আধিকারিককে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সম্পর্কেও পৃথক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
অন্য একটি নির্দেশিকায় কমিশন আরও জানিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় যেসব এলাকায় ভোট-সংক্রান্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই সময় সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের নামের তালিকাও দিতে হবে।
কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ও ভোটের দিন ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ভোট হবে আরও ১৪২টি কেন্দ্রে।
গত কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সাত থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সেই তুলনায় এবার কম দফায় ভোট আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।