২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পূর্ব রেলওয়ে এক অনন্য সাফল্যের সঙ্গে বছর শেষ করল। যাত্রী সংখ্যা ও সামগ্রিক রাজস্ব— উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেলের কার্যক্ষমতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। উন্নত পরিষেবা, পরিকাঠামোর প্রসার এবং সময়নিষ্ঠ পরিষেবার ফলে রেল নেটওয়ার্কের প্রতি যাত্রীদের আস্থা যে ক্রমেই বাড়ছে, তা স্পষ্ট এই পরিসংখ্যানে।
এই অর্থবর্ষে পূর্ব রেল মোট ১,৩২.২৮৪ কোটি যাত্রীকে পরিষেবা দিয়েছে, যেখানে গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা ছিল ১,২৫.৩৫৯ কোটি। প্রায় ৭ কোটি যাত্রী বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, দৈনন্দিন যাতায়াত থেকে দূরপাল্লার সফর— সব ক্ষেত্রেই রেলের উপর নির্ভরতা বেড়েছে।
যাত্রী বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্বে। যাত্রী বাবদ আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,১৮৫.৮৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের ৩,৮৫৫.৯৩ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। শুধু টিকিট বিক্রিই নয়, পার্সেল ও লাগেজ পরিষেবাতেও উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এই খাতে আয় হয়েছে ১৩৯.৬৪০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের ১৩১.৬১৩ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। এর ফলে দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর দ্রুত ও দক্ষ পরিবহন নিশ্চিত হয়েছে।
এছাড়া, টিকিট পরীক্ষার উপর জোর দেওয়ায় শৃঙ্খলা বজায় থাকছে এবং বেড়েছে রাজস্বও। এই খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ১০১.৪৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের ৮০.৭০৮ কোটি টাকার তুলনায় অনেকটাই বেশি।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, ‘এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিদিনের যাত্রার গল্প। আমরা যাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিষেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাফল্য ভবিষ্যতে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে আরও গতি আনবে, যা যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করবে।