দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বন্ধ থাকবে সোনাঝুরি হাট, শান্তিনিকেতন নিয়ে হতাশ পর্যটকরা

Sonajhuri Haat Photo-SNS

রাত পোহালেই মহাষষ্ঠী। আর এবার দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বন্ধ থাকবে সোনাঝুরি হস্তশিল্পীদের হাট। শান্তিনিকেতনের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে পড়ে সোনাঝুরির হাট। কিন্তু এখানে দুর্গাপুজোর সময় অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড় থাকে। যা সামাল দেওয়া বেশ চাপের। আর পর্যটকদের ঢলের জেরে জঙ্গলের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হয়। সেসব যাতে না হয় তার জন্যই হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, বন দপ্তর এবং হাট কমিটি। এই তিন পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার ১৬ তারিখ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত হাট বন্ধ রাখা হবে। তখন জঙ্গল সাফাইয়ের কাজে হাত লাগাবেন স্থানীয় হস্তশিল্পী এবং ব্যবসায়ীরা। তবে হাট বন্ধ থাকলেও সোনাঝুরি জঙ্গলে আয়োজিত হীরালিনী দুর্গোৎসবে দেখতে পারবেন সকলেই।

এই সিদ্ধান্ত অবশ্য পর্যটকদের পছন্দ হয়নি। দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন। নানা জিনিস কিনে থাকেন। সেই আনন্দ এবার মাটি হয়ে যাবে। দুর্গাপুজোর কদিন সোনাঝুরি জঙ্গলে পর্যটকদের ঢল নামবে না। সেখানে এবার সোনাঝুরির হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের জেরে পর্যটক রত্নদীপ রায় বলেন, ‘মন ভেঙে গেল। শান্তিনিকেতন যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেললাম।’ এখানে জঙ্গলের পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত যাতে না হয় তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে হাট কমিটির অন্যতম সদস্য সুকেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে সোনাঝুরিতে ব্যাপক ভিড় হয়। তাই হাট খোলা থাকলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এই কারণে হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, দুর্গাপুজো দেখুন, কিন্তু জঙ্গলে প্লাস্টিক ফেলবেন না।’

শান্তিনিকেতনে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন যেসব পর্যটক তাঁদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরির খোয়াই হাট। এখানে সারা বছরই ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। জঙ্গলের প্রাকৃতিক পরিবেশে পোশাক, গয়না থেকে শুরু করে নানা ধরনের হস্তশিল্পের পসরা সাজিয়ে বসেন স্থানীয় শিল্পী এবং ব্যবসায়ীরা। কেনাকাটার পাশাপাশি সেলফি এবং রিল তৈরি করেন অনেকে। আবার কেনাকাটার পর খাওয়া-দাওয়া করে থাকেন পর্যটকরা। তাই পর্যটকের চাপ সামলানো এবং জঙ্গলের পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এবার তা বন্ধ রাখা হচ্ছে। পর্যটক সম্রাট পুরকায়স্থ বললেন, ‘আগে জানতে পারলে টিকিট ক্যানসেল করে দিতাম।’


তাছাড়া সোনাঝুরি জঙ্গলের কাছেই হয় হীরালিনী দুর্গোৎসব। এই বছর ২৬ বছরে পা দিয়েছে এই দুর্গাপুজো। দুর্গাপুজো দেখতে আসা মানুষের ভিড়ের সঙ্গে হাটের ক্রেতা এবং পর্যটকদের ভিড় মিশে গেলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হবে। বন দপ্তর ও হাট কমিটি এই আশঙ্কা থেকেই মহাষষ্ঠী থেকেই বিজয়া দশমী পর্যন্ত হাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, বন দপ্তরের জমিতে সোনাঝুরি হাটের বৈধতা নিয়ে পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি এখন বিচারাধীন।