দুর্গাপুর ধর্ষণ মামলা: ৯৬ দিন পর বন্ধ আদালতে নির্যাতিতার সাক্ষ্য

প্রতীকী চিত্র

দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় অবশেষে শুরু হল বিচারপর্ব। ঘটনার ৯৬ দিন পর শুক্রবার বিশেষ আদালতে নির্যাতিতার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার কথা মাথায় রেখে ভরা এজলাসে নয়, বন্ধ কোর্টরুমেই এই সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। শনিবারও বিশেষ আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে সাক্ষ্যগ্রহণ চলবে।

ওড়িশার বাসিন্দা ওই ডাক্তারি পড়ুয়া আদালতে জানান, ঘটনার দিন তাঁর এক পুরুষ সহপাঠী তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন।পাশাপাশি পুলিশ যে পাঁচ জন স্থানীয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল, তাঁদের মধ্যেও একজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলেন তিনি। আদালত সূত্রে খবর, সহপাঠী ছাড়া বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে নির্যাতিতা স্পষ্টভাবে সনাক্ত করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ অক্টোবর রাতে। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী তাঁর পুরুষ সহপাঠীর সঙ্গে খাবার খেতে কলেজ ক্যাম্পাসের বাইরে যান। অভিযোগ, সেখানেই তিনি গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনার পর সহপাঠীসহ মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং সকলের বিরুদ্ধেই গণধর্ষণের  মামলা দায়ের করা হয়।


নির্যাতিতা প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় যে বয়ান দিয়েছিলেন, পরে পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে তার পরিবর্তন হয় বলে অভিযোগ ওঠে।তবে আদালত সূত্রে খবর, শুক্রবার তিনি পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানকেই আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে টানা সাক্ষ্যে তিনি সেই রাতের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং বিচারকের করা সমস্ত প্রশ্নের  উত্তর দেন।

শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় নির্যাতিতার এফআইআর, পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ান, গোপন জবানবন্দি এবং ছ’টি মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে পেশ করেন। অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী শেখর কুন্ডু ও সৌমেন মিত্র উপস্থিত ছিলেন। বন্ধ কোর্টরুমের বাইরে ছিল কড়া পুলিশি পাহারা। শনিবার আবার নির্যাতিতা ও অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানো হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের তরফে প্রশ্নোত্তর শুরু হতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে।