৬ কোটির বেশি সম্পত্তি ব্রাত্য বসুর, গাড়ি নেই— দমদমের প্রার্থীকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

দমদম বিধানসভা কেন্দ্রে চতুর্থবারের জন্য প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁর সম্পত্তির হলফনামা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাঁর হলফনামা অনুযায়ী, ব্রাত্য বসুর হাতে নগদ রয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রী পৌলমী বসুর কাছে রয়েছে ৩০ হাজার টাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমার অঙ্ক অনেকটাই বেশি। ব্রাত্যের ছ’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩ কোটি ৩১ হাজার ১৯১ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে ১ কোটি ৬ লক্ষ ১২ হাজার ৪৫৬ টাকা।

গাড়ির তালিকায় বর্তমানে শূন্য তিনি। একসময় মাহিন্দ্রা জিপের মালিক থাকলেও এখন আর তাঁর নিজের কোনও গাড়ি নেই। গয়নাগাটির ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ। ব্রাত্যের কাছে রয়েছে প্রায় ১০০ গ্রাম সোনা, যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৩৮০ গ্রাম গয়না, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে, সোনা, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ মিলিয়ে ব্রাত্যের সম্পত্তির পরিমাণ ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ২ কোটি ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩৯ টাকা।


এদিকে স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে লেক টাউনে প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের একটি পৈতৃক বাড়ি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। কৃষিজমি বা অন্য কোনও জমি তাঁদের নামে নেই। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটিরও বেশি। হলফনামা অনুযায়ী, ব্রাত্য বসুর নামে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই।

ব্রাত্য বসুর রাজনৈতিক জীবন শুরু ২০১১ সালে। তখন তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭৩ লক্ষ টাকা। সময়ের সঙ্গে সেই অঙ্ক ক্রমশ বেড়ে এখন কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি এগিয়ে। ১৯৯২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দমদম কেন্দ্রে তৃণমূলের সংগঠন ও উন্নয়নের বার্তা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারেন ব্রাত্য বসু।