টানা বৃষ্টিতে রূপনারায়ণ নদীর জল বাড়ল, খানাকুলের বন্দর এলাকায় ভেসে গেল বাঁশের সেতু

Bamboo Bridge Collapse Photo-SNS

টানা বৃষ্টিতে রূপনারায়ণ নদীর জল মারাত্মক বেড়ে গিয়েছে। আর তার জেরে খানাকুলের বন্দর এলাকায় জলের তোড়ে ভেসে গেল বাঁশের সেতু। এই ঘটনার ফলে হুগলির খানাকুলের সঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুরের হরিশপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। সুতরাং ভোগান্তিতে পড়েছেন বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ। এখানে নানা নদ-নদী দিয়ে বেষ্টিত। তাই খানাকুলের বেশিরভাগ জায়গায় যাতায়াতের মূল ভরসা বাঁশ, কাঠের সেতু অথবা নৌকা। আবার শিলাবতী এবং রূপনারায়ণের জল বেড়ে যাওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ঘাটালের বাসিন্দারাও।

হরিশপুরে রূপনারায়ণ নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বাঁশের সেতু বা সাঁকো। তাই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঘাটাল এবং হুগলির খানাকুলের বন্দর এলাকার মধ্যে। আর চন্দ্রকোণার ঘোষকিরা এলাকায় শিলাবতী নদীর জল বইছে সাঁকোর উপর দিয়ে। তাই ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন এলাকার মানুষজন। প্রত্যেক বছর বর্ষায় এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। গত সরকারের কাছে পাকা সেতুর জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হয়নি বলেই অভিযোগ। এবার নতুন সরকার এসেছে পশ্চিমবঙ্গে। তাই এই বদলের পরে তাঁদের পুরনো দাবি পূরণ হবে বলে আশা করছেন বাসিন্দারা।

প্রত্যেক বছর বর্ষায় খানাকুলের মানুষকে যাতায়াতের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত কয়েকদিন ধরে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জলস্তর বেড়েছে রূপনারায়ণ নদীতে। জলের স্রোতে শনিবার খানাকুলের বন্দর-হরিশপুর ফেরিঘাটের বাঁশের সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে ভেসে যায়। তখন অনেকেই সেতু পারাপার করছিলেন। কোনওরকমে কয়েকজন পাড়ে উঠে আসেন। এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।


তাছাড়া হরিশপুরে রূপনারায়ণ নদের উপরে বাঁশের সাঁকো জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঘাটালের সঙ্গে হুগলির খানাকুল-২ ব্লকের বন্দর এলাকার। প্রত্যেকদিন দুই জেলার প্রায় একহাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে এই সাঁকো দিয়ে। এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা দীপেন নাগ বলেন, ‘এই সাঁকো দিয়ে সহজেই কম সময়ে খানাকুল, আরামবাগ পৌঁছে যাওয়া যেত। আপাতত নৌকো ছাড়া নদী পার হওয়া সম্ভব নয়। কংক্রিটের সেতুর জন্য বহু বছর ধরে আবেদন করেও লাভ হয়নি। প্রত্যেক বছর বর্ষায় এই সমস্যায় পড়তে হয়।’ বাঁশের সেতু ভাঙার মুহুর্তের সিসিটিভি ফুটেজও সামনে এসেছে। সেতু ভেঙে যাওয়ায় এখন নৌকা ছাড়া পারাপারের কোনও উপায় নেই। ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত নৌকার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।