রাজ্যজুড়ে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। তার জেরে একাধিক জেলায় জল জমে গিয়েছে। জল যন্ত্রণায় স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর তার সঙ্গে শুরু হয়েছে ডিভিসি’র জল ছাড়ার বিষয়। এই দুই অবস্থায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ডিভিসি’র ছাড়া জলে হাওড়া এবং হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অংশ প্লাবিত হয়ে গেল! হাওড়ার উদয়নারায়পুর এবং আমতা-২ নম্বর ব্লক, হুগলির তারকেশ্বর, জাঙ্গিপাড়া, ধনেখালি ব্লকের নানা অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু চাষের জমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। তার উপর রাত থেকে দামোদর নদীর বাঁধ উপচে নানা এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। এই কারণে তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০টি গ্রামে বানভাসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ডিভিসি জল বেশি ছেড়েছে বলে অভিযোগ খোদ রাজ্য সরকারের। তাই কম জল ছাড়তে বলার পাশাপাশি সবদিক খতিয়ে দেখতে টেলিফোন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। তারপরও ডিভিসি ১ লক্ষ ৪৬ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে দেয়। তার জেরে কুরচি-শিবপুর, ডিহিভুরশুট এবং হরিশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত জুড়ে সাতটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে মোট ৬৩৮ জন গ্রামবাসী আশ্রয় নিয়েছেন। ওই ত্রাণ শিবিরে তাঁদের রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। এমনকী বিতরণ করা হচ্ছে শুকনো খাবারও।
এখন যা পরিস্থিতি তাতে ঘোলা, আকনা, কুরচি, শিবানীপুর, মনসুকা, টোকাপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীবাঁধ উপচে জল ঢুকছে। তাতে মানুষজন আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। উদয়নারায়ণপুর-ডিহিভুরশুট রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চাষবাসে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কতটা ফসল নষ্ট হয়েছে সেটার সমীক্ষা করা হবে। পাঁচলায় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক কর্তাদের এবং আমতার বিধায়ককে উদয়নারায়ণপুরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপরই উদয়নারায়ণপুরের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান জেলাশাসক পি দীপাপপ্রিয়া, হাওড়ার (গ্রামীণ)পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা, রাজ্য পুলিশের প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কংকরপ্রসাদ বারুই, উলুবেড়িয়ার মহকুমাশাসক মানসকুমার মণ্ডল, আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত।
সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ডিভিসির ছাড়া জলে আমতা ২ নম্বর ব্লকের দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা এবং ঘোড়াবেড়িয়া চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু এলাকা ভেসে গিয়েছে। দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সেখানে তিনটি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে ১২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এখানে ডিভিসি ১ লক্ষ ১৬ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে। তার জেরে ফসলের জমি জলের তলায় গিয়েছে। নদীবাঁধে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বরের চাঁপাডাঙা, কেশবচকের নীচু জায়গা জলের তলায়। তারকেশ্বরের বন্যা পরিস্থিতি দেখতে যান জনস্বাস্থ্য কারিগরিমন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য।