পাহাড়ে বৃষ্টি থামার নাম নেই। নাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছে। জল বাড়তে শুরু করেছে তিস্তা নদীতে। রাতভর বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও অঝোরে বৃষ্টির স্পেল অব্যাহত। আর এই ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। শিলিগুড়ি-সিকিম সড়ক যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এলাকায় ধস নেমে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় লাগোয়া এলাকাতে বেশি বৃষ্টির কমলা সতর্কতা দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার। এই দু’দিন কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
বৃষ্টির দাপটের জেরে সিংতাম-রংপো রুটে ধস নেমেছে। ২০ মাইল এলাকা তার জেরে বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাথরের চাই গড়িয়ে পড়ছে বলে খবর। কাদা এবং ধ্বংসস্তূপে তলিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ যাত্রীদের থেকে শুরু করে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পর্যটন মরশুমে বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে। সিকিম প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের ভূমিধস বিধ্বস্ত এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিকিমে নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে তিস্তারও জলস্তর বেড়েছে।
কদিন আগেই সিকিমের পথে ব্যাপক ধস নেমেছিল। এবার সেটা মারাত্মক আকার নিয়েছে। যার জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এলাকায় ধস নেমে লন্ডভন্ড পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শিলিগুড়িতেও বৃষ্টি নেমেছে। তার জেরে দুশ্চিন্তায় দুর্গাপুজো উদ্যোক্তারা। নানা এলাকায় পুজো প্রস্তুতির গতি স্লথ হয়েছে। সিকিমে ধস অব্যাহত। শিলিগুড়ির সঙ্গে সংযোগকারী সংশ্লিষ্ট রাজ্যের লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দুটি অংশ বন্ধ হয়ে পড়ে। দুপুরের পর খুললেও ধসের জেরে বন্ধ হয়ে যায় উত্তর সিকিমের লাচেন রোড। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপের জেরে আগামী কদিন উত্তরবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির দাপট চলবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার বেশিরভাগ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, বজ্রপাতের সম্ভাবনা আছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বৃষ্টির দাপট কমবে।
তাছাড়া ভারী বৃষ্টির জেরে নতুন করে ভূমিধসে সিকিমের রিম্বি-ইউকসাম রোড। ২০ মাইল বারদাং রোড-সহ প্রধান সড়কপথগুলি অবরুদ্ধ হয়েছে। বারদাং রোড জলকাদায় তলিয়ে অবরুদ্ধ হয়েছে। পশ্চিম সিকিমের রিম্বি-ইউকসাম সড়ক বৃহস্পতিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাহাড় থেকে মাটি-পাথর নেমে আসায় রিম্বি হয়ে খেচুপেরি থেকে গিয়ালশিংগামী সড়কটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। উত্তর সিকিমে চুংথাং-লাচেনের মধ্যে সংযোগকারী লাচেন সড়ক ধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সিআইআইয়ের পর্যটন সেলের পক্ষে সম্রাট সান্যাল বলেন, ‘লাচেন রোড থেকে সিকিম সরকার ধস সরানোর কাজ করছে।’