রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পথে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, বর্ডার লাগোয়া অঞ্চল দিয়ে কোনওরকম অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। শুধু তাই নয়, সীমান্তের ওপার থেকে যাতে কেউ এপারে ঢুকতে না পারে, একইসঙ্গে এদিক থেকেও যাতে কেউ ওপারে যেতে না পারে, সে দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই ধরনের কড়াকড়ি কার্যকর হয়। তবে এ বার পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অনেক আগেই সেই বিধিনিষেধ চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দিচ্ছে কমিশন—সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
এতেই শেষ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি, এলাকায় যারা অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে চিহ্নিত, তাঁদের কাউকেই বাইরে রাখা যাবে না—অবিলম্বে শনাক্ত করে আটক করার নির্দেশও স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।
ভোটের আগে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকের মতে, এই নির্দেশগুলি যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নির্বাচন কমিশন কি শেষ পর্যন্ত সেই কঠোরতার বাস্তব রূপ দিতে পারবে? এখন নজর সেই দিকেই।