অল্পের জন্য এড়ানো গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তার উপর দিয়ে একটি গাড়ি এঁকেবেঁকে ছুটছিল, যেন নিয়ন্ত্রণে নেই। হঠাৎই চলন্ত গাড়ির দরজা খুলে এক মহিলা লাফিয়ে পড়েন। রাস্তার ধারে পড়ে দু’তিন বার গড়িয়ে গিয়ে কোনও মতে থামেন তিনি। মুহূর্তের জন্য স্তম্ভিত হয়ে যান আশপাশের মানুষ।
মঙ্গলবার বোলপুর থেকে ভাড়া গাড়িতে ফিরছিলেন সিউড়ি জেলা অফিসের প্ল্যানিং অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্স দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর অতসী ভট্টাচার্য। সিউড়ি বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছনোর পর আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন গাড়ির চালক। অফিসের এক কর্মীর কথায়, চালক কোনওমতে অসুস্থতার কথা জানাতেই অতসী তাঁকে গাড়ি থামাতে বলেন। কিন্তু তার আগেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। গাড়ির গতি কিছুটা কমলেও চালক স্টিয়ারিংয়ের উপর ঢলে পড়েন। নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে রাস্তা জুড়ে ছুটতে থাকে গাড়ি।
ভয় পেয়ে জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে সাহায্য চাইতে থাকেন অতসী। কিন্তু কেউ বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তিনি দরজা খুলে লাফ দেন। তাঁকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। ট্র্যাফিক পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সকলে মিলে জানলা দিয়ে হাত গলিয়ে গাড়ির চাবি খুলে সেটি থামান।
অতসীর সামান্য চোট লেগেছে। তাঁকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি বলে স্থানীয়দের দাবি। অন্য দিকে চালককে দ্রুত সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে।