রহড়া বালক আশ্রমে অনুদান, নজরুলকে সহায়তা, মুসলিম ছাত্রদের উন্নয়ন—শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা নিয়ে কল্যাণ চক্রবর্তী

Photo: Representational Image

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান নিয়েও নতুন করে মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন আছে বলে জানালেন মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী।

তাঁর দাবি, সাম্প্রদায়িক বলে দাগানো শ্যামাপ্রসাদ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনিষ্ঠতম উপাচার্য হিসেবে শুধু হিন্দু ছাত্রদের জন্য নয় মুসলিম ছাত্রদের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁদের প্রয়োজন ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি কাজ করেছিলেন।

এরপরই রহড়া বালক আশ্রমের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, অনাথ শিশুদের খোঁজ নিতে শ্যামাপ্রসাদ নিজে রহড়া বালক আশ্রমে এসেছিলেন। সেই সময়ে তিনি আশ্রমের জন্য ২৫ হাজার টাকা—যা তখনকার দিনে অত্যন্ত বড় অঙ্ক—অনুদান দেন।
পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেন। কল্যাণ চক্রবর্তীর কথায়, শ্যামাপ্রসাদ সারাজীবন রহড়া বালক আশ্রমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আজও প্রেমানন্দ ধামের পাশে ‘হিন্দু মহাসভাধাম’ লেখা সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, অনাথ ছাত্রদের প্রতি শ্যামাপ্রসাদের গভীর মমত্ববোধ থাকলেও ইতিহাসের মূলধারায় সেই অধ্যায় খুব কমই উঠে এসেছে।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নজরুল সাহায্যের আশায় বিভিন্ন মহলে গেলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই মোটা অঙ্কের আর্থিক সাহায্য করেন এবং নিজের বাগানবাড়িতে স্বস্ত্রীক নজরুলের থাকার ব্যবস্থা করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উদ্যোগ নেন।
কল্যাণ চক্রবর্তী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গৌরবময় ইতিহাস আড়ালে রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমানে সেই ইতিহাস ও তাঁর অবদান বাংলার মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

আগামী দিনে তাঁর জীবন, আদর্শ ও কর্মকে আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘এবার থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন বাংলার মানুষ উৎসবের আবহে পালন করবে। তাঁর জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’