এসআইআর-এ নথি হিসেবে কমিশনে গণ্য ডোমিসাইল সার্টিফিকেট

ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেট নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মেনে নিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র গ্রহণ নিয়ে লাগাতার প্রতিবাদ চালায় শাসক দল। সেই চাপে পড়েই অবশেষে এসআইআর শুনানির শেষ পর্বে ডোমিসাইলকে নথি হিসেবে মেনে নিল কমিশন।

শনিবার নির্বাচন কমিশন রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে তা জানিয়েছে। তবে কোন শংসাপত্রগুলি বৈধ হিসাবে গ্রাহ্য হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক এবং কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টর থেকে প্রাপ্ত শংসাপত্রই বৈধ বলে ধরা হবে। একই সঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে, শংসাপত্রগুলি অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯৯৯ সালের নিয়ম মেনে তৈরি হতে হবে।

১৯৯৯ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বাঙালি নন  কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে অনেক দিন ধরে রয়েছেন এবং আর্মি, ডিফেন্স বা প্যারামিলিটারি বাহিনীতে চাকরির জন্য ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মা কমপক্ষে প্রায় ১৫ বছর ধরে একটানা পশ্চিমবঙ্গে থাকলে তাঁরা এই শংসাপত্র পেতে পারেন।


আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের পশ্চিমবঙ্গে নিজের বাড়ি বা জমি থাকলে তাঁরা এটি পেতে পারেন। আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গে জন্মেছেন এবং এখানকার স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করেছেন, সেই প্রমাণ থাকলেও স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র পাওয়া যায়। সিইও দফতরে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন জানিয়েছে, এই নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সকল অফিসারকে তা জানিয়ে দিতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

অনলাইনে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা যাবে। ই-ডিস্ট্রিক্ট ওয়েবসাইটে আবেদন করতে হবে। অনলাইনেই আবেদন মূল্য জমা দিতে পারবেন। তবে আপনি কোন রাজ্যের বাসিন্দা তার উপর নির্ভর করে আবেদন মূল্য জমা দিতে হবে। কয়েকটি রাজ্যে আবার ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন করা যায় অ্যাপের মাধ্যমেও।

অফলাইনেও ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। রাজস্ব অফিস, কালেক্টর বা ডেপুটি কালেক্টর অফিস, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অফিস অথবা মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট, নাগরিক পরিষেবা কর্নার বা রেজিস্ট্রার বা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যাবতীয় নথি নিয়ে গেলে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে।