রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয় : কেন্দ্রকে তোপ মমতার

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (File Photo: Kuntal Chakrabarty/IANS)

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থার বিলগ্নীকরণ আর্থিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বুধবার ভারত পেট্রোলিয়াম সহ পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাকে কেন্দ্রের বিলগ্নিকরণের ছাড়পত্র প্রসঙ্গে এই মন্তব্যই করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুর সার্কিট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন ক্ষোভ উগরে আরও বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যার মােকাবিলায় বিলগ্নীকরণ কোন স্থায়ী সমাধান নয়। এভাবে চলল, বিপর্যয় নেমে আসবে এবং এক সময় দেশটাই বিলগ্নীকরণ হয়ে যাবে হলে তিনি এদিন জানিয়ে দেন।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দল বিলগ্নিকরণের বিরুদ্ধে। আমরা মনে করি পজিটিভ সেন্সে কোথাও কোথাও মার্জার হতে পরে কিন্তু সই মাজারটাও অফিসারদের কাজ রেখে। বিশেষ করে আমাদের অনেকগুলি ব্যাঙ্ক মার্জারের নামে বাংলার লিড ব্যাঙ্ককেই তুলে নিয়ে যাওয়া হল। বাংলার লিড ব্যাঙ্ক ইউবিআইকে যদি এখান থেকে তুলে হেড কােয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে সেটার ভবিষ্যৎ কি এটা আমাদের সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। এটাই হচ্ছে বড়াে ব্যাপার।


দ্বিতীয়ত অডিনেন্স ফ্যাক্টরিও বিলগ্নীকরণ হচ্ছে, সেটা আমরা কোন রকমে আটকেছি। সবটা হয়তাে আটকাতে পারিনি। আন্দোলন চলছে। আমাদের তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের আন্দোলন চলছে। আমি নিজেও সেই আন্দোলনে গিয়েছি। আপনারা জানেন ওদের সঙ্গে মিটিং করেছি। ব্যাঙ্কিং সেক্টর, অডিন্সে ফ্যাক্টরি সেক্টর, ওদিকে বিএসএনএল সেক্টর, টেলিফোন এয়ার ইন্ডিয়া। এটাই একমাত্র সমাধান নয়। যে সমস্ত পাবলিক সেক্টরগুলি ডিস ইন্সেমেন্ট করে দিয়ে সেই টাকাটা নিয়ে কায়েসিস মেটানাে, এটা একটা টাইমলি মিটবে কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত ইকোনমি স্টেবিলিটি না আসবে এটা কিন্তু সমাধান নয়। তার কারণ বাড়তে বাড়তে ইকোনমি ডিজাস্টরটা আরও বাড়বে।

এটা নিয়ে দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলুন। দরকার হলে সর্বদলীয় মিটিং করুন। দেশটা আমাদের সবার। নির্বাচিত সরকার যখন ক্ষমতায় রয়েছে তখন তারা কাজ করবে। আমাদেরও নির্বাচিত সরকার এখানে কাজ করবে। নির্বাচিত সরকারকে কাজ করতে দেওয়া উচিত। সাথে সাথে পজিটিভ যে কথাগুলাে আমার মনে হয় সবার মতামত নেওয়া উচিত। যাতে এমপ্লয়মেন্ট ডিটোরিয়েন্স হবে না। এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটিও বাড়বে। এখন অপরচুনিটি হচ্ছে না। এমপ্লয়মেন্ট টোটাল বন্ধ।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, ইন্ডিয়া ইস এ ক্যান্টরি। এখানে ক্যাশলেস সােসাইটি কোনদিন চলেনি। নােটবন্দি করে দেওয়ার ফলে এই যে ডিজিট্যাল ডিজিট্যাল করছে আমার ততে আপত্তি নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে ক্যাশলেস সােসাইটি অর্থাৎ মানুষের কাছে কোন টাকাই নেই। বিলগ্নীকরণ তাে আরও ৪৫ টিতে করেছে। আরও কতগুলি বলছে করবে। সবটা বিলগ্নীকরণ করে বলছে, ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা আমরা পাবাে। একটা দেশের পক্ষে এই টাকাটা আমরা মনে হয় না বার বার বিলগ্নীকরণ করলে আস্তে আস্তে দেশটাই যদি বিলগ্নীকরণ হয়ে যায়। তাহলে আমরা কি করবাে? তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কি থাকবে? দেশের হাতে কি থাকবে? চলবেটা কোথা থেকে? সুতরাং এটা খুব সিরিয়াসভাবে ভাবা উচিত বলে আমি মনে করি।